মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বিদ্যমান মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইলকে বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি স্বাধীন অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ গুশ এতজিওন বসতি ব্লকে একটি কোর্সে অংশ নেওয়া রিজার্ভ কমব্যাট অফিসারদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। নেতানিয়াহু বলেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তার মূল্য ইসরাইল উপলব্ধি করে, তবে এখন নিজেদের সক্ষমতা শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়, বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, “আমাদের মার্কিন বন্ধুদের কাছ থেকে ইসরাইল যে সমর্থন পেয়েছে, আমি তার গভীর প্রশংসা করি। তবে আমাদের এখন এই নির্ভরতা থেকে মুক্ত হতে হবে এবং নিজেদের স্বাধীন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ইসরাইলকে সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। তার মতে, নির্ভরতা থেকে মুক্ত হওয়া, শক্তি বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং দক্ষ কমান্ডার তৈরি করার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে ইসরাইলের অবস্থান নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারক এবং লেবানন ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে যখন বিরোধ বাড়ছে, তখনই নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য সামনে এলো।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওই চুক্তির বিরোধিতা করায় নেতানিয়াহু সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনা করেছিলেন। ভ্যান্স বলেছিলেন, তিনি যদি ইসরাইলি মন্ত্রিসভার সদস্য হতেন, তাহলে বিশ্বের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের বিরুদ্ধে এভাবে অবস্থান নিতেন না।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত তিন মাসে ইসরাইলের সুরক্ষায় ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের দুই-তৃতীয়াংশই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এবং সেগুলোর ব্যয় বহন করেছে মার্কিন করদাতারা। তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের সমস্যা ডোনাল্ড ট্রাম্প নন এবং যারা এমনটি মনে করেন, তাদের বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফার একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ নামে পরিচিত এই স্মারকের লক্ষ্য ছিল সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান এবং বিভিন্ন বিরোধের নিষ্পত্তি করা।
গত ১৮ জুন কার্যকর হওয়া এই সমঝোতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা।