ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। আগামী ৪ ও ৫ জুলাই রাজধানী তেহরানে এই বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এরপর ৬ জুলাই তেহরানে, ৭ জুলাই কোম শহরে এবং ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে এই আমন্ত্রণ ভারতের জন্য একটি জটিল কূটনৈতিক ও কৌশলগত পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারত ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। জ্বালানি, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ভারতের জন্য চাবাহার বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পাকিস্তানের ভূখণ্ড এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এই বন্দর, যেখানে ভারত বিপুল বিনিয়োগ করেছে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহত খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে ভারতের উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ব্রহ্ম চেলানির মতে, এই আমন্ত্রণ ভারতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক পরীক্ষা। তার ভাষায়, খামেনির মৃত্যুর পর ভারতের নীরবতা তেহরানের দৃষ্টিতে একটি কূটনৈতিক ঋণের মতো বিবেচিত হতে পারে। তবে জানাজায় ভারতের উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি আবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্র ও ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগতভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ ওই সময় তার পূর্বনির্ধারিত বিদেশ সফরের সূচি রয়েছে।
তবে ২০২৪ সালের মে মাসে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হলে ভারত এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল এবং তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে তেহরানে পাঠিয়েছিল। সেই নজির অনুসরণ করে এবারও ভারত কোনো জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বা উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল পাঠাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
/এএসএফ