দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২।
প্রথম কম্পনের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
মার্কিন সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাস এবং আশপাশের এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে আঘাত হানা এই দুই ভূমিকম্পের কারণে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
ইউএসজিএস আরও সতর্ক করেছে, এই দুর্যোগ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী আফটারশক বা পরাঘাতও অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো জনগণকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি ভবনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কিছু স্থাপনা বা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা গ্যাস থেকে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটুক তা চাই না।’
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের সময় কারাকাসের বাসিন্দারা দ্রুত ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তার ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কাচ ভেঙে পড়েছে।
এদিকে, বার্তা সংস্থা এএফপির এক আলোকচিত্রে কারাকাসের একটি ভবনকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবনটি একটি ব্যাংক ছিল।
/এসএন