ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা ১৯৪৭ সাল থেকে তাপমাত্রার হিসাব সংরক্ষণ করে আসছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে দেশের ৩০টি আবহাওয়া স্টেশনের গড় তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে রাতের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই, যখন গড় তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, দেশের অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যুর ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি বলেন, তাপপ্রবাহের সময় অননুমোদিত স্থানে সাঁতার কাটার বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
দেশটিতে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী সিন নদীতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়া কার্পেনট্রাস শহরে রোদে তপ্ত একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে লিঁও শহরের কাছে রোন নদী থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক তরুণ ফুটবলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইতালিতেও তাপপ্রবাহের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রাজধানী রোম ও মিলানসহ ১৫টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। কৃষি ও নির্মাণ খাতে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষায় ইতালি সরকার বিশেষ জরুরি শ্রম সুরক্ষা আইন পুনরায় কার্যকর করেছে, যাতে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে তাদের কাজ করতে না হয়।
জার্মানিতেও পানিতে ডুবে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির রাইন নদী থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্পেনেও প্রচণ্ড গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তুলনামূলক শীতল উত্তরাঞ্চলের শহর স্যান সেবাস্তিয়ানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
স্পেনের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশটিতে আগের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে। ২০০০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ১০ বার তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। অথচ এর আগের ২৫ বছরে এমন ঘটনা ঘটেছিল মাত্র দুবার।
এদিকে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তর সোমবার জানিয়েছে, চার দিনের একটি তাপপ্রবাহে দেশটির কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ুবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নেস বলেন, ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি আবহাওয়াগত অবস্থার কারণে উত্তর আফ্রিকা, বিশেষ করে সাহারা মরুভূমি থেকে উষ্ণ বাতাস ইউরোপে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলেই এত তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ ও ঝড়ের মতো চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।