• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৪ পিএম


পরমাণু পরিদর্শকদের ফের প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত ইরান: জেডি ভ্যান্স

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ জুন ২০২৬ ১২:৫৯ এএম

ইরান পুনরায় আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে আলোচনা খুব দ্রুত, এমনকি সোমবার (২২ জুন) থেকেই শুরু হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সুইজারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সোমবার মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রথম দফার আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি ‘রোডম্যাপ’ বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এই আলোচনাকে একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একজন আমেরিকান হিসেবে পরমাণু ইস্যুতে এই অগ্রগতি তাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করেছে। তিনি এটিকে মার্কিন জনগণের জন্য একটি বড় মাইলফলক এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার পরিদর্শকরা কবে নাগাদ ইরানে ফিরতে পারবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে তিনি আশা করছেন। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি জেসিপিওএ থেকে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এই পরিদর্শন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের পর ইরান আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার স্থগিত করে। এর পরের মাসে সংস্থাটি কাতার থেকে তাদের সব পরিদর্শককে ফিরিয়ে নেয়। বর্তমান সমঝোতা স্মারকে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত খতিয়ে দেখতে আইএইএকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে চলমান আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানের প্রধান আলোচকরা সোমবার স্থান ত্যাগ করলেও কারিগরি বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। মধ্যস্থতাকারীদের যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে একটি স্থায়ী ‘যোগাযোগ লাইন’ স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের উদ্দেশ্যে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও লেবাননের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি একে প্রথম ‘আসল পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ সাম্প্রতিক চুক্তি সত্ত্বেও লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় পাঁচ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন।