লেবাননের ভূখণ্ড ও সাধারণ মানুষকে ইসরাইলি বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতিরোধ যুদ্ধ অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইরান-সমর্থিত সংগঠনটি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের ‘ইসলামী প্রতিরোধ বাহিনী’ যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। সংগঠনটির যোদ্ধারা নিজেদের মাতৃভূমি ও জনগণকে রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির ভাষ্য, ইসরাইল কখনোই যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত কিংবা আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মকানুনকে গুরুত্ব দেয়নি।
এর আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, যতদিন প্রয়োজন মনে হবে ততদিন ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের মাটিতে অবস্থান করবে। পাশাপাশি হিজবুল্লাহর যেকোনো হামলার জন্য সংগঠনটিকে ‘ভারী মূল্য’ দিতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) লেবাননে সব ধরনের সামরিক অভিযান ও সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে সেই শান্তি উদ্যোগের মধ্যেও ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর যোদ্ধা ও তাদের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান ও স্থল অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মাঠপর্যায়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল-জাজিরা
/এএসএফ