• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৯ পিএম


হঠাৎ রাগে বিস্ফোরণ? শুধুই কি ক্ষোভের প্রকাশ নাকি কোন রোগ?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ৯:৫৪ পিএম

আমরা প্রায়ই শুনি—রাগী মানুষদের মন নাকি খুব ভালো। কথাটি শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবে সেই ‘ভালো মন’ যদি মুহূর্তের রাগে অন্যের মনে আঘাত দেয়, তাহলে তার মূল্য কতটুকু—সেটিই বড় প্রশ্ন। আমাদের আশপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা সাধারণত সহানুভূতিশীল ও সাহায্যপ্রবণ; কিন্তু ছোট কোনো বিষয়েই হঠাৎ তীব্র রাগে ফেটে পড়েন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন আচরণ সবসময় স্বাভাবিক নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে Intermittent Explosive Disorder বা হঠাৎ রাগের বিস্ফোরণজনিত মানসিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি সামান্য ঘটনায় অস্বাভাবিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান—চিৎকার, কটু কথা বা আক্রমণাত্মক আচরণ পর্যন্ত হতে পারে।

লেবানিজ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জোসেলিন আজার জানান, এই ধরনের মানুষ সাধারণত স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন এবং রাগের মুহূর্তের আগ পর্যন্ত তাদের আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায় না। তবে হঠাৎ করেই তারা নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং পরে অনুশোচনায় ভোগেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। তবে অনেকেই এটিকে ‘স্বভাব’ ভেবে গুরুত্ব দেন না, ফলে চিকিৎসা নেন না।

এই সমস্যার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে—শৈশবের ট্রমা, নির্যাতন, পারিবারিক অস্থিরতা, এমনকি মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশের অতিরিক্ত সক্রিয়তাও এর সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি সেরোটোনিনের ভারসাম্যহীনতা, মাদক বা অ্যালকোহল গ্রহণও সমস্যা বাড়াতে পারে।

এ ধরনের রাগ শুধু মানসিক নয়, শারীরিক ঝুঁকিও তৈরি করে—যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক বা ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যক্তিগত সম্পর্ক; পরিবার ও কাছের মানুষ ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সমস্যার চিকিৎসা সম্ভব। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি, রিলাক্সেশন কৌশল, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে ওষুধের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—রাগকে ‘স্বভাব’ বলে এড়িয়ে না গিয়ে এটিকে বোঝা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া। কারণ নিয়ন্ত্রণহীন রাগ শুধু একজন মানুষকেই নয়, তার আশপাশের পুরো পরিবেশকেও প্রভাবিত করে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

এই এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার সংক্রান্ত গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো শৈশবের ট্রমা, শোষণ এবং শারীরিক নির্যাতন, বুলির শিকার হওয়াও এই রাগ বা ক্রোধের কারণ।