‘দম’–এ আফরান নিশো।
দীর্ঘ ১০ বছর পর নির্মাতা রেদওয়ান রনি ফিরলেন বড় পর্দায়, আর ফিরলেন রাজকীয়ভাবে। আফগানিস্তানের তপ্ত মরুভূমি, তালেবান বন্দিশালা আর একজন মানুষের নিশ্বাস ধরে রাখার লড়াই— সব মিলিয়ে ‘দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং এক রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতা।
আফরান নিশোর দম সিনেমা নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী, আর নিশো সেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছেন। শাহজাহান ইসলাম নূর চরিত্রে তার অভিনয় ছিল এক কথায় ‘মাস্টারক্লাস’। খুব কম সংলাপে কেবল চোখের ভাষা আর শারীরিক অভিব্যক্তি দিয়ে একজন বন্দি মানুষের অসহায়ত্ব এবং বেঁচে থাকার আকুতি তিনি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা তাকে ঢালিউডের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ‘সুড়ঙ্গ’ বা ‘দাগি’র চেয়েও এই সিনেমায় নিশো যেন আরও অনেক বেশি পরিণত।
সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সারভাইভাল থ্রিলারটি আমাদের নিয়ে যায় আফগানিস্তানের দুর্গম মরুভূমিতে। সাধারণ এক চাকরিজীবী নূর কীভাবে পরিস্থিতির শিকার হয়ে তালেবানদের হাতে বন্দি হন এবং সেই মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে আসার জন্য তার যে সংগ্রাম—তাই এই সিনেমার মূল প্রাণ। সিনেমার মেকিং এতটাই বাস্তব যে, পর্দার নূরের সাথে দর্শক নিজেও কখন যে ‘দোয়া ইউনুস’ পড়া শুরু করেন, তা টেরই পাওয়া যায় না।
সিনেমায় নূরের স্ত্রী রানীর চরিত্রে পূজা চেরী ছিলেন অনবদ্য। গ্ল্যামার ভেঙে একজন সাধারণ গৃহবধূর চরিত্রে স্বামীর জন্য তার যে হাহাকার, তা দর্শকদের চোখে জল এনে দেয়। অন্যদিকে, সুজিত চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরীর উপস্থিতি ছোট হলেও গল্পের প্রয়োজনে ছিল গুরুত্বপূর্ণ, যদিও দর্শকরা হয়তো তার কাছ থেকে আরও একটু বেশি কিছু প্রত্যাশা করেছিলেন।
ভিএফএক্সের যুগে দাঁড়িয়ে ‘দম’ আমাদের দেখিয়েছে অরিজিনাল অ্যাকশন এবং রিয়েল লোকেশনের জাদু। চিত্রগ্রাহক মিখাইল সিরিয়ানোভের ক্যামেরায় মরুভূমির ল্যান্ডস্কেপ আর বন্দিশালার অন্ধকার দৃশ্যগুলো ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে গাধার সেই দৃশ্যটি বা কাবাডি খেলার রূপকটি দর্শকদের অনেকদিন মনে থাকবে। সিনেমার আবহসংগীত এবং ‘প্রহর’ বা ‘কোথায় পাব তাহারে’র মতো গানগুলো গল্পের আবেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আপনি যদি গতানুগতিক মারপিট বা নাচের সিনেমার বাইরে বিশ্বমানের একটি মানবিক এবং রোমাঞ্চকর গল্প দেখতে চান, তবে ‘দম’ আপনার জন্য মাস্ট-ওয়াচ। প্রেক্ষাগৃহ থেকে বের হওয়ার পরও শাহজাহান ইসলাম নূরের সেই ‘দম’ বন্ধ করা লড়াই আপনার মনে দাগ কেটে থাকবে।