• ঢাকা
  • রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ এএম


তিন শিশুকে বেত্রাঘাত ও গলায় জুতার মালা

স্কুলের আম পেড়ে খাওয়ায় নির্মম শাস্তি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ মে ২০২৬ ১২:৫৮ পিএম

বগুড়ায় স্কুলের গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ার অভিযোগে তিন শিশুশিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং ‘আমচোর’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

এই ঘটনার জেরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা গোল শাহানারা বেগমকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। সোমবার (৪ মে) বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে বগুড়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে। কমিটিকে বুধবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে থাকা একটি আমগাছ থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী কাঁচা আম পেড়ে খায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন বিকেলে প্রধান শিক্ষিকা গোল শাহানারা বেগম চতুর্থ শ্রেণির দুইজন এবং পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তাদের ‘আম চুরির’ অভিযোগে বেত্রাঘাত করা হয়।

এরপর ওই তিন শিক্ষার্থীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং ‘আমচোর’ লেখা কাগজ শরীরে লাগিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ ও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ঘোরানো হয়। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকাকে সহায়তা করেছেন বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষক—এমন অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে বগুড়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ২৮ এপ্রিল বিদ্যালয়ের গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ার ঘটনায় পরদিন প্রধান শিক্ষক গোল শাহানারা বেগম তিন শিক্ষার্থীকে ডেকে এনে বেত্রাঘাত করেন। পরে তাদের গলায় জুতার মালা ও ‘আমচোর’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি জুতার মালা তৈরি থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের গলায় তা পরানোর কাজে অন্যান্য শিক্ষকও সহযোগিতা করেন।

তিনি আরও জানান, ৩ মে অভিভাবকদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর প্রধান শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বক্তব্য গ্রহণ করেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্রুতই জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীদের গলায় ‘আমি আমচোর’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে বিদ্যালয় চত্বরে ঘোরানো হয় এবং অন্য শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলা হয়, ভবিষ্যতে এমন কাজ করলে একই ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে।

স্থানীয় অভিভাবক আবু বকর বলেন, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চান। তবে জড়িত সকল শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অধিকাংশ অভিভাবক।

/এসএন