শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্ত ও সহনশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল-এর এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
ঘটনার তদন্তে হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেন-কে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের পৃথক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন জাওয়াদ ইবনে ফরিদ এবং সদস্য হিসেবে আছেন আইসিটি বিশেষজ্ঞ ও সহকারী প্রক্টর ড. মো. মোসাদ্দেক খান। এই কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, একই রাতে শাহবাগ থানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমান-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্টকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।
এই সংঘর্ষের ঘটনাও তদন্তে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব কায়সার-কে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া, ড. রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম সোহাগ ও আমজাদ হোসেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সমস্যা সমাধানে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ধৈর্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।