• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৮ পিএম


ইসলামী ব্যাংকের আমানত নিয়ে আত’ঙ্ক নয়, যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন গ্রাহকরা: গভর্নর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ জুন ২০২৬ ১০:৩২ পিএম

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নীতিগত ও আর্থিক উপকরণ রয়েছে, যা প্রয়োজনে দ্রুত প্রয়োগ করা হবে। ফলে ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা যেকোনো সময় তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর জানান, ইসলামী ব্যাংকের জন্য প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি তারল্য সহায়তা (ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি সাপোর্ট) দেবে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু টুলস আছে, যা আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রয়োগ করব। আমানতকারীদের কোনো অসুবিধা হবে না, তারা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন।”

ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঈদের আগে ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। যেহেতু এটি একটি সিস্টেমিক ব্যাংক এবং বোর্ড পরিচালনার জন্য ন্যূনতম পাঁচজন সদস্য প্রয়োজন, তাই দ্রুত একজন সদস্য নিয়োগ দিতে হয়েছে।

ব্যাংকটিতে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগও নাকচ করেন গভর্নর। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়েছিল। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।

গভর্নর বলেন, “আমরা কোনো বোনাস, বদলি বা পদোন্নতির জন্য কোনো নির্দেশ দিইনি। কাউকে ঋণ দিতে বলিনি। এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”

ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ব্যাংকটির ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ছিল ৯৩ শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমা ৯২ শতাংশ। এ কারণে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনাকে এ হার কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেখেছেন ব্যাংকিং খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ চুরি হয়ে গেছে। খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম লক্ষ্য ছিল খাতটিকে স্থিতিশীল করা এবং পরে পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ নেওয়া।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। এই ধরনের একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।”

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কেও কথা বলেন গভর্নর। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর দেখতে পান ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন এবং মনোনীত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দায়িত্ব নিতে রাজি নন। পরে নতুন এমডি নিয়োগের জন্য ২৫ মার্চ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়।

বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং ৬ ও ১০ মে সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর ১২ বা ১৩ মে নতুন এমডি নির্বাচন করা হয়। অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে মে মাসের শেষ দিকে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

তিনি জানান, বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান সম্প্রতি প্রথম বোর্ড সভাও পরিচালনা করেছেন।

গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংক খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস) সমন্বয় করা। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কাজ করছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাত নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন গভর্নর। তিনি বলেন, আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে কয়েকটি সমস্যাগ্রস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সমাধান প্রক্রিয়া শুরু হবে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে যেসব আমানতকারী তাদের অর্থ ফেরত পাচ্ছিলেন না, তারা এখন ধীরে ধীরে টাকা ফেরত পেতে শুরু করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি হয়নি, অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। তাই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। সম্পত্তি লেনদেনে প্রকৃত মূল্য ঘোষণা এবং কর-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/এসএন