• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ এএম


উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের বড় সুখবর, চালু হলো হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ লেন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ মে ২০২৬ ৫:০২ পিএম

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গগামী মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে। দীর্ঘদিনের যানজট ও ভোগান্তি কমাতে খুলে দেওয়া হয়েছে নির্মাণাধীন হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বগুড়া-রংপুরগামী ফ্লাইওভার লেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই লেন চালুর ফলে এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক হবে।

রোববার (২৪ মে) সকালে হাটিকুমরুল এলাকায় বিভিন্ন চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন আশাবাদের কথা জানা গেছে।

জানা যায়, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। এখান থেকেই ঢাকা-পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুরমুখী যানবাহন আলাদা হয়ে যায়।

স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদ মৌসুমে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছে যায়। ফলে প্রতিবছরই এই মোড়ে দীর্ঘ যানজট ও চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে গত ২১ মে সকালে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ লেনটি খুলে দেওয়া হয়। এতে যানজট কমবে এবং যাত্রীরা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা থেকে রংপুরগামী বাসচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের আগেই লেনটি খুলে দেওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাত্রা এবার অনেকটাই স্বস্তির হবে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও আগের মতো যানজটে আটকে থাকতে হবে না।”

বগুড়াগামী যাত্রী সাবিহা, সাইমা ও শফিউর রহমান বলেন, “হাটিকুমরুল মোড় মানেই ছিল দুর্ভোগের আরেক নাম। নতুন লেন চালু হওয়ায় এবার ঈদযাত্রা অনেক সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছি।”

গাবতলী হাট থেকে গরুবাহী ট্রাক নিয়ে যাওয়া চালক আব্দুল মমিন বলেন, “ঈদের সময় পশুবাহী গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নতুন এই লেন চালু হওয়ায় মালবাহী যানবাহন দ্রুত চলাচল করতে পারবে এবং সময়ও কম লাগবে।”

গাজীপুর থেকে মাইক্রোবাস নিয়ে বগুড়ার পথে থাকা চালক শিপন ও রানা জানান, আগে হাটিকুমরুল এলাকায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হতো। এখন আলাদা লেন চালু হওয়ায় যান চলাচল সহজ হবে।

রংপুর থেকে ঢাকাগামী বাসচালক দুলাল শেখ বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে এই মোড়ে। নতুন লেন চালু হওয়ায় চালক ও যাত্রী—উভয়ের দুর্ভোগ কমবে।

এ বিষয়ে ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে যানবাহনের দ্বিমুখী চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী পরিবহন একসঙ্গে চলাচল করায় চাপ আরও বাড়বে। নতুন এই লেন সেই চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সাসেক-২ প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক সরফরাজ হোসাইন জানান, উত্তরবঙ্গগামী প্রায় ৬০ শতাংশ যানবাহন এই লেন ব্যবহার করবে। এতে এবারের ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রায় ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে জেলার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘরমুখো মানুষ ও গরুর ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা নিরাপত্তাহীনতায় না পড়েন, সে জন্য জেলা পুলিশ দিন-রাত কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, গত ঈদে জেলায় ৫৮৫ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার যানবাহনের বাড়তি চাপ ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্য মাঠে থেকে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

/এসএন