• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩২ এএম


চার কসাই কাটবেন ১৬ গরু, একেক গ্রুপের আয় ৪ লাখ টাকা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ মে ২০২৬ ৬:৪৭ পিএম

কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে শতাধিক কসাই রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। ইতোমধ্যে ট্রেন ও বাসযোগে অর্ধশতাধিক কসাই ঢাকায় পৌঁছে গেছেন বলেও জানা গেছে।

কসাইদের দাবি, কুরবানির তিন দিনে তারা অন্তত ২০ লাখ টাকার বেশি আয় করবেন। কেউ কেউ আবার ঈদের আগের রাতে বিমানে করেও ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

স্থানীয় কসাইরা জানান, কুরবানির ঈদের ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মানুষ সৈয়দপুরের কসাইদের অগ্রিম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। এ কারণে ঈদের দুই থেকে তিন দিন আগেই অধিকাংশ কসাইকে ঢাকায় পৌঁছাতে হচ্ছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পশুর মাংস কাটার জন্য হাজারপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত চুক্তি হয়েছে।

কাল্লু নামের এক কসাই জানান, এবারের ঈদে সৈয়দপুর থেকে শতাধিক কসাই ঢাকায় গিয়ে কুরবানির পশু কাটার কাজ করবেন। চারজন করে একটি দল গঠন করে তারা কাজ করবেন।

তিনি বলেন, “তিন দিনে একেকটি গ্রুপ কমপক্ষে ১৬টি গরু কাটতে পারবে। এতে করে প্রতিটি গ্রুপ প্রায় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে।”

আরেক কসাই মজনু জানান, তিনি ২৩ মে রাতে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। আবার অনেকে ২৫ মে সকালে ঢাকায় যাবেন। কেউ কেউ ঈদের আগের দিন রাতে বিমানে করেও রাজধানীতে পৌঁছাবেন বলে জানান তিনি।

নাদের এন্টারপ্রাইজের সুপারভাইজার আলমগীর বলেন, “আমার কাছে ১৫ থেকে ২০ জন কসাই ঢাকা যাওয়ার জন্য টিকিট চেয়েছেন। এর মধ্যে অনেকে ইতোমধ্যে টিকিট নিয়ে গেছেন।”

বিমানের টিকিট বিক্রেতারাও জানিয়েছেন, সৈয়দপুর থেকে বেশ কয়েকজন কসাই ঈদের আগের দিন বিমানযোগে ঢাকায় যাবেন।

রাজধানীর উত্তরায় বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত বিমান কর্মকর্তা তারেক জানান, চাকরির কারণে দীর্ঘদিন সৈয়দপুরে থাকায় সেখানকার অনেক মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় রয়েছে। সেই সূত্রে ঈদের কুরবানির মাংস কাটার জন্য সৈয়দপুরের একজন কসাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে চুক্তি করেছেন তিনি।

তারেক বলেন, ঈদের দিন সকালে উত্তরার বাসায় এসে গরুর মাংস কাটবেন ওই কসাই। এজন্য তাকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

সৈয়দপুর কসাই সমিতির সভাপতি মো. নাদিম ওরফে ছোটুয়া বলেন, সৈয়দপুরে কসাইদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। এ কারণে অধিকাংশ কসাই ঢাকামুখী হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, “ঢাকায় মানুষ হাজারে ৩০০ টাকা পর্যন্ত মাংস কাটার পারিশ্রমিক দেয়। এজন্য ঈদের আগে সৈয়দপুর প্রায় কসাইশূন্য হয়ে যাবে। তখন স্থানীয় মানুষ কাদের দিয়ে পশু কাটাবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।”

তিনি আরও বলেন, সৈয়দপুরের মানুষ যদি হাজারে ১৫০ টাকা করে মাংস কাটার পারিশ্রমিক দিতেন, তাহলে অর্ধেক কসাইও ঢাকায় যেতেন না।

কসাই সমিতির এই নেতা মনে করেন, কসাইদের শুধু ব্যক্তিগত লাভের কথা চিন্তা না করে স্থানীয় মানুষের কথাও ভাবা উচিত। শুধুমাত্র বেশি আয়ের জন্য সৈয়দপুরের মানুষকে সমস্যায় ফেলে ঢাকায় চলে যাওয়া ঠিক হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।