• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৮ এএম


পেটের সন্তান নিয়েই কাদায় নেমে জীবিকা, উপকূলে নারীর কঠিন বাস্তবতা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৬ পিএম

সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদে দারিদ্র্য আর জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনই লড়াই করে বাঁচতে হয় অসংখ্য মানুষকে। সেই বাস্তবতারই এক মর্মস্পর্শী প্রতিচ্ছবি শ্যামনগর উপজেলা-র দাতিনাখালী গ্রামের দিপালী মুন্ডা।

বৈশাখের তীব্র গরম আর লবণাক্ত বাতাস উপেক্ষা করে গর্ভে সন্তান নিয়েই তিনি হাঁটুসমান কাদায় নেমে রেণু আহরণ করছেন চুনা নদী-তে। হাতে ছোট জাল, চোখে দৃঢ়তা—জীবিকার তাগিদে থেমে থাকার সুযোগ নেই তার।

চার সন্তানের মা দিপালী বর্তমানে পঞ্চম সন্তানের অপেক্ষায়। চিকিৎসকদের মতে, আর দেড় মাস পরই তার সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা। তবে তিনি মারাত্মক রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুষ্টির অভাবে তার শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় পরিবার কল্যাণ কর্মীরা তাকে রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দিলেও আর্থিক সংকটে সব ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। এমনকি কমিউনিটি ক্লিনিকেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে।

দিপালী জানান, সংসারের অভাবের কারণে তিনি ঠিকমতো খাবারও পান না। স্বামী সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরলেও তা দিয়ে কষ্টে সংসার চলে।

দিনভর নদীতে কাজ করে তিনি প্রায় ২৯০টি রেণু সংগ্রহ করেন, যা বিক্রি করে পান মাত্র ১৮০ টাকা। এই সামান্য আয়েই চলে পুরো পরিবারের জীবনযাপন।

স্থানীয়দের মতে, দিপালির মতো অনেক নারীই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই কাজ করছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিকাজ কমে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার ফলে নারীদের নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।