• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম


মেয়েদের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ায় বৃদ্ধের ঘরে তা’লা দিলেন ভাই-ভাতিজারা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ নভেম্বর ২০২৬ ১:২৩ পিএম


নিজের মালিকানাধীন জমি ছয় মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পর বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্ট্রোকে আক্রান্ত অসুস্থ বৃদ্ধ আব্দুর ছাত্তার খান চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেও নিজের ঘরে প্রবেশ করতে পারছেন না।

বসতঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি রান্নার চুলা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমনকি চলাচলের পথ আটকে দিতে গাছের গুঁড়িও ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে নিজের ভিটাতেই খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে অসুস্থ এই বৃদ্ধকে।

শরীয়তপুরের সখিপুর থানার ডিএমখালী ইউনিয়নের মাঝিকান্দি এলাকায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর ছাত্তার খানের কোনো ছেলে সন্তান নেই। তার পরিবারের সদস্য বলতে ছয় মেয়ে। সম্প্রতি নিজের মালিকানাধীন জমি তিনি ছয় মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। জমি হস্তান্তরের কিছুদিন পরই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজনে তখন এক মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন আব্দুর ছাত্তার।

পরিবারের অভিযোগ, জমি মেয়েদের নামে লিখে দেওয়ার বিষয়টি জানার পর থেকেই তার আপন ভাই মোস্তফা খান, ভাতিজা ইমরান খান এবং ভাগনে এনামুল শিকদারের সঙ্গে তীব্র পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সুযোগ বুঝে আব্দুর ছাত্তার খানের বসতঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভেঙে ফেলা হয়েছে রান্নার চুলা। বাড়ির ভেতরের গাছপালা কেটে সেগুলোর গুঁড়ি ঘরের সামনে ফেলে রাখা হয়েছে, যাতে বসতঘরে প্রবেশের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে নিজের ঘরের দরজায় তালা ঝুলতে দেখে চরম অসহায় অবস্থায় পড়েন শারীরিকভাবে প্রায় অক্ষম এই বৃদ্ধ। দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত ভিটায় ফিরেও ঘরে আশ্রয় না পেয়ে বাধ্য হয়ে বসতঘরের সামনের উঠানে মাটির ওপর বিছানা পেতে অবস্থান করছেন তিনি।

অসুস্থ বৃদ্ধের এমন দুর্দশার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। আব্দুর ছাত্তার খানকে নিজের ঘরে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিও জানিয়েছে তারা।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ভাই মোস্তফা খান। তার দাবি, আব্দুর ছাত্তার দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে অবস্থান না করায় চুরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। মূলত ঘরের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তালা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইন জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। বিষয়টি জানার পরপরই খোঁজখবর নিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

/এসএন