• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ এএম


মাটি খুঁড়/তেই মিলল ধাতব বস্তু, পরে উদ্ধার ৯৬টি মাইন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ আগস্ট ২০২৬ ৪:০০ পিএম

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কাটার সময় ছয়টি ধাতব বস্তু পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার দুই দিন পর ঘটনাস্থলে খনন চালিয়ে ৯৬টি মাইন উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে যশোর সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে পুরো এলাকা পরীক্ষা করার পর খননকাজ শুরু করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে খননের পর মাটির নিচ থেকে একে একে মাইনগুলো উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ৯৬টি মাইনের মধ্যে ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন এবং ৭৯টি অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন রয়েছে।

গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস জানান, উদ্ধার করা মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য পাশের মধুগাড়ি মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছেন। নিরাপত্তার জন্য ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছেন পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা।

এর আগে শনিবার বেতবাড়িয়া গ্রামের প্রবাসী নুরুজ্জামান কালুর সাত শতাংশ জমিতে বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে শ্রমিকেরা মাটি কাটছিলেন। এ সময় মাটির নিচ থেকে ছয়টি ধাতব বস্তু বেরিয়ে আসে। বস্তুগুলোর গায়ে ‘মাইন ১৯৬৭’সহ বিভিন্ন লেখা দেখা যায়।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। পরে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর সোমবার সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে গিয়ে পুরো এলাকা মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করেন এবং খনন চালিয়ে বিপুলসংখ্যক মাইন উদ্ধার করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, উদ্ধার হওয়া মাইনগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পুঁতে রাখা হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বেতবাড়িয়ার কাছাকাছি দৌলতপুরের বেংগাড়ি মাঠে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, ওই যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজিত হয়ে বেতবাড়িয়া হয়ে কুষ্টিয়ার দিকে পালিয়ে যায়। ওই সময় তারা এলাকায় মাইন পুঁতে রেখে যেতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

একসঙ্গে ৯৬টি মাইন উদ্ধারের ঘটনায় বেতবাড়িয়া এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করার পর ঘটনাস্থলটি পুরোপুরি নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। এরপর পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসএন