বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) ১৩৪ কোটি টাকার ‘পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ’ প্রকল্পকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগে বলা হচ্ছে, গবেষণার জন্য আফ্রিকা থেকে আনা ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টিই জবাই করে খাওয়া হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে প্রকল্পের আওতায় দুই দফায় আফ্রিকা থেকে ২২টি উটপাখি আনা হয়। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের জলবায়ুতে উটপাখির অভিযোজন, প্রজনন সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা। পাশাপাশি গরু-খাসির মাংসের বিকল্প উৎস হিসেবে উটপাখির সম্ভাবনাও মূল্যায়নের কথা ছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টি জবাই করা হয়েছে, তিনটি মারা গেছে এবং বর্তমানে মাত্র দুটি জীবিত রয়েছে। আরও দুটি উটপাখির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, গবেষণার অংশ হিসেবে উটপাখির মাংসের গুণগত মান ও স্বাদ পরীক্ষার কথা বলে ধাপে ধাপে সেগুলো জবাই করা হয়। এমনকি প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজনদেরও দাওয়াত দিয়ে সেই মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
প্রকল্প শুরুর সময় গবেষকরা দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশের পরিবেশে উটপাখি সহজেই অভিযোজিত হতে পারবে। একটি পূর্ণবয়স্ক উটপাখির ওজন ১০০ থেকে ১৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে এবং একটি উটপাখি থেকে এক থেকে দুটি দেশীয় গরুর সমপরিমাণ মাংস পাওয়া সম্ভব। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে এ মাংস বাজারজাত করার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছিল।
তবে প্রকল্পের ফলাফল, উটপাখিগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বিএলআরআইয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
/এএসএফ