ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২৬: আবেদন, ফি ও সম্পূর্ণ গাইডলাইন
ই-পাসপোর্ট রিইস্যু মানে হলো আপনার বর্তমান পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন একটি পাসপোর্ট গ্রহণ করা। বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় ডাটাবেজে আপনার তথ্য আগে থেকেই থাকায় রিইস্যু প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত সম্পন্ন হয়।
ধাপ ১: অনলাইন আবেদন শুরু করা
সরাসরি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে (epassport.gov.bd) প্রবেশ করুন। যদি আপনার আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকে তবে লগইন করুন, অন্যথায় নতুন অ্যাকাউন্ট খুলুন। আবেদনের শুরুতে জানতে চাওয়া হবে আপনার পাসপোর্ট আছে কি না, সেখানে ‘Yes’ দিয়ে আপনার বর্তমান পাসপোর্টের তথ্য প্রদান করুন।
ধাপ ২: বর্তমান পাসপোর্টের তথ্য প্রদান
আপনার বর্তমান পাসপোর্টের নম্বর, ইস্যু এবং এক্সপায়ারি ডেট সঠিকভাবে লিখুন। রিইস্যুর কারণ হিসেবে ‘Expired’, ‘Lost’ বা ‘Data Change’ (তথ্য সংশোধন) অপশনগুলো থেকে আপনার জন্য যেটি প্রযোজ্য সেটি নির্বাচন করুন।
ধাপ ৩: তথ্য ভেরিফিকেশন ও পেমেন্ট
আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম এবং এনআইডি নম্বর যদি আগের পাসপোর্টের সাথে মিল থাকে তবে সরাসরি পেমেন্ট অপশনে চলে যান। ব্যাংকিং বা অনলাইন পেমেন্ট (বিকাশ/নগদ) গেটওয়ে ব্যবহার করে নির্ধারিত ফি জমা দিন এবং পেমেন্ট স্লিপটি ডাউনলোড করে নিন।
ধাপ ৪: অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও বায়োমেট্রিক
আবেদন সাবমিট করার পর একটি তারিখ ও সময় (Appointment) নির্বাচন করুন। নির্দিষ্ট দিনে প্রিন্ট করা আবেদন কপি, পেমেন্ট স্লিপ এবং পুরনো পাসপোর্ট নিয়ে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হন। সাধারণত রিইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন করে ছবি তোলা বা আঙুলের ছাপ দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে (যদি আগে ই-পাসপোর্ট থেকে থাকে), তবে কিছু ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশনের জন্য প্রয়োজন হতে পারে।
২০২৬ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী ৫ বছর ও ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের রিইস্যু ফি নিচে দেওয়া হলো:
|
ডেলিভারি ধরণ |
৫ বছর মেয়াদ |
১০ বছর মেয়াদ |
|
নিয়মিত (২১ দিন) |
৪,০২৫ টাকা |
৫,৭৫০ টাকা |
|
দ্রুত (১০ দিন) |
৬,৩২৫ টাকা |
৮,০৫০ টাকা |
|
অত্যন্ত জরুরি (২ দিন) |
৮,৬২৫ টাকা |
১০,৩৫০ টাকা |
|
ডেলিভারি ধরণ |
৫ বছর মেয়াদ |
১০ বছর মেয়াদ |
|
নিয়মিত (২১ দিন) |
৬,৩২৫ টাকা |
৮,০৫০ টাকা |
|
দ্রুত (১০ দিন) |
৮,৬২৫ টাকা |
১০,৩৫০ টাকা |
|
অত্যন্ত জরুরি (২ দিন) |
১২,০৭৫ টাকা |
১৩,৮০০ টাকা |
বি.দ্র: উপরোক্ত ফির সাথে ১৫% ভ্যাট যুক্ত করা হয়েছে। অত্যন্ত জরুরি পাসপোর্টের জন্য নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জমা দিতে হতে পারে।
রিইস্যু করার জন্য পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় নিচের কাগজগুলো সাথে রাখুন:
তথ্য পরিবর্তনের প্রমাণ: যদি নাম বা ঠিকানা পরিবর্তন করতে চান, তবে এনআইডি বা প্রাসঙ্গিক সার্টিফিকেট।
১. হারানো পাসপোর্ট: যদি পাসপোর্ট হারিয়ে যায়, তবে রিইস্যু আবেদনের আগে অবশ্যই নিকটস্থ থানায় একটি জিডি (GD) করতে হবে এবং আবেদনের সময় জিডির কপি আপলোড করতে হবে।
২. তথ্য সংশোধন: পাসপোর্ট রিইস্যু করার সময় যদি তথ্য সংশোধন করতে চান, তবে আপনার এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল কি না তা নিশ্চিত করুন। তথ্যের গরমিল থাকলে আবেদন পেন্ডিং হতে পারে।
৩. ১০৫ হেল্পলাইন: যেকোনো টেকনিক্যাল সমস্যায় বা স্ট্যাটাস জানতে সরকারি পাসপোর্ট হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে কল করতে পারেন।
এই গাইডটি অনুসরণ করলে আপনি কোনো দালালের সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে আপনার পাসপোর্ট রিইস্যু সম্পন্ন করতে পারবেন।