• ঢাকা
  • রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৪ এএম


শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঢাকার ফায়ার স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সতর্কবার্তা ডিজির

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ আগস্ট ২০২৬ ৯:০৮ পিএম

রাজধানী ঢাকায় রিখটার স্কেলে ৭ বা তার বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব অবকাঠামো ও সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে একযোগে বহু স্থানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবাজারে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সদস্যদের জন্য আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মহাপরিচালক জানান, সম্ভাব্য বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে বিশেষ জরুরি পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এর কার্যকারিতা যাচাই করতে ইতোমধ্যে একটি ড্রাই এক্সারসাইজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ছোট আকারের উদ্ধার সরঞ্জাম ও ফায়ার ফাইটারদের দুর্গত এলাকায় পাঠানোর ব্যবস্থাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে জাহেদ কামাল বলেন, টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমগুলো যদি আগাম সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্বভিত্তিক এলাকা নির্ধারণ করে, তাহলে সরকারের কাছে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছানো সহজ হবে। এতে উদ্ধার কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশের আগে অবশ্যই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভবনের ক্ষয়ক্ষতির ধরন অনুযায়ী উদ্ধারকৌশল পরিবর্তিত হয়। তাই সংবাদ সংগ্রহের সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, ভূমিকম্পের সময় করণীয়, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, লিফট ব্যবহার না করা এবং টর্চলাইট, জরুরি ওষুধ ও বাঁশিসহ একটি জরুরি কিট প্রস্তুত রাখার বিষয়ে নিয়মিত প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।

ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল ও টানেলের মতো আধুনিক অবকাঠামোকে ঘিরে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব স্থানে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সহযোগিতায় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস একটি ব্যয়বহুল জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত যানবাহন ও সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ফায়ার লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রতিটি লাইসেন্সে কিউআর কোড সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে জাল লাইসেন্স ব্যবহার রোধ করা যায়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। দুর্যোগ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সংবাদমাধ্যমকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করতে হবে।

/এএসএফ