• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ এএম


প্রায় ৩৮ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে যাত্রা, মার্কিন অবরোধ ভাঙার দাবি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ জুন ২০২৬ ১১:৫১ পিএম

প্রথমবারের মতো অন্তত তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধ অতিক্রম করে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট।

বুধবার (১৭ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্র ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর মাত্র দুই দিন আগে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রস্তাবিত চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্ত—এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

শান্তি আলোচনার চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক পর্বত রিসোর্টে বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ট্যাঙ্কারের অতিক্রম বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, তা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। এর মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে নতুন ইসরাইলি হামলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং সংস্থা ‘ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স’ জানিয়েছে, গত দুই মাসে এটি ইরানের প্রথম অপরিশোধিত তেল রপ্তানি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাঙ্কার কোম্পানি (এনআইটিসি)-এর দুটি সুপার ট্যাঙ্কার—‘ডিওনা’ ও ‘হিরো-২’—মোট প্রায় ৩৮ লাখ ব্যারেল তেল বহন করেছে। পরে আরও একটি ট্যাঙ্কারের যাত্রা নিশ্চিত করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে তাৎক্ষণিকভাবে তেল ও জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং, পরিবহণ এবং বীমা খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রক্ষণশীল আইনপ্রণেতা। সিনেটের রিপাবলিকান সদস্যরা চুক্তির বিস্তারিত খসড়া এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।

সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন বলেন, ‘আসুন আমরা বিষয়টি দেখি এবং এতে আসলে কী রয়েছে, তা বুঝে নিই।’