• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ এএম


বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠক

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ জুন ২০২৬ ৬:৪৩ পিএম

চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আস্থাহীনতা, গ্রাহকদের ব্যাপক আমানত প্রত্যাহার এবং তারল্য সংকটের প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের চলতি দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুইজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) এবং ছয়জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) অংশ নিয়েছেন। প্রতিনিধি দল ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি, তারল্য সংকট এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে গভর্নরকে অবহিত করার কথা রয়েছে।

চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে তৈরি হওয়া অসন্তোষ ও আস্থাহীনতার কারণে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বড় ধরনের চাপে পড়েছে। গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলনের ফলে ব্যাংকটির তারল্য ব্যবস্থাপনায় সংকট তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ইসলামী ব্যাংককে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সহায়তার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা নগদ অর্থ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আন্তঃব্যাংক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সেবা সচল রাখতে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকিং সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই গ্রাহকদের একটি অংশের মধ্যে আস্থার সংকট দেখা দেয়। এর ফলে মাত্র সাত কার্যদিবসে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকা আমানত তুলে নেওয়া হয়। এতে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, খুরশীদ আলম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকটির সিআরআর প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা থাকার কথা। তবে ধারাবাহিক আমানত উত্তোলনের কারণে তা বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত ব্যাংকটির চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ব্যালেন্সেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

দৈনন্দিন লেনদেন এবং গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের চাপ সামাল দিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সেই আবেদনের অংশ হিসেবেই প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

কেন তৈরি হলো এই অস্থিরতা?

গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম. জুবায়দুর রহমান হঠাৎ পদত্যাগ করেন। একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে এই নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, শেয়ারহোল্ডার এবং গ্রাহকদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিতর্কিত ব্যক্তিকে শীর্ষ পদে বসানো হলে ব্যাংকের চলমান সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তাদের দাবি, দাবি পূরণ না হলে আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

অন্যদিকে, শুক্রবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো অবৈধ হস্তক্ষেপ করেনি।

গভর্নর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইসলামী ব্যাংকে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড ছিল। ওই বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক কারও বদলি বা পদোন্নতির বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, বাস্তবে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

/এসএন