• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৫ এএম


বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, পেনশনের সাথে মিলবে গ্র্যাচুইটি সুবিধা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ জুন ২০২৬ ৬:৪৭ পিএম

বেসরকারি চাকরিজীবীদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণকারীরা অবসরের সময় মোট জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক হিসেবে উত্তোলন করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়, আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় বেশি।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে ৩ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি ব্যক্তি নিবন্ধন করেছেন। এসব স্কিমে জমাকৃত তহবিলের পরিমাণ প্রায় ২৬০ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ বেসরকারি খাতের শ্রমিক ও কর্মচারীর বড় অংশ অবসরকালীন কোনো নিশ্চিত আয়ব্যবস্থার আওতায় নেই। সরকারি চাকরিজীবীরা পেনশন সুবিধা পেলেও বেসরকারি খাতে দীর্ঘদিন ধরে এমন সুরক্ষা কাঠামোর অভাব ছিল।

পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনপ্রিয় ও কার্যকর করতে কয়েকটি নতুন প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের প্রগতি স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা।

প্রস্তাবিত প্রগতি স্কিম অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মী সমান হারে চাঁদা প্রদান করবে। মাসিক চাঁদার পরিমাণ ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হবে। অবসরের পর অংশগ্রহণকারীরা আজীবন মাসিক পেনশন পাবেন।

এ ছাড়া মাসিক চাঁদার ওপর কর রেয়াত এবং প্রাপ্ত পেনশন সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার সুবিধাও থাকবে। অবসরের সময় মোট সঞ্চয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে উত্তোলন করা যাবে।

সরকার জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত বিনিয়োগ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই তহবিল পরিচালিত হবে, যা অংশগ্রহণকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

/এএসএফ