• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম


ইসলামী ব্যাংককে আবার এস আলমের হাতে দেওয়ার চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলাম

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ জুন ২০২৬ ৮:৪১ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি অভিযোগ করেছেন, এস আলমসহ বড় বড় আর্থিক মাফিয়াদের বিচারের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। বরং ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

শুক্রবার (১২ জুন) চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন দায়েম নাজির জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “এস আলমসহ বড় বড় মাফিয়া অলিগার্করা ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকতায় জনগণের অর্থ লুট করে বিদেশে অবস্থান করছে। কিন্তু তাদের বিচারের বিষয়ে কোনো কার্যকর বক্তব্য আমরা শুনছি না। উল্টো ইসলামী ব্যাংককে আবার এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।”

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যদি হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকার জামায়াত বা ১১ দলকে এক ধরনের কোনঠাসা করার চেষ্টা করছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। ব্যাংকিং খাত ইতোমধ্যে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের তিন কোটি আমানতকারী যদি আস্থা হারায়, তাহলে এর প্রভাব অন্য ব্যাংকগুলোতেও পড়বে।”

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, সরকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট এবং প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তার ভাষায়, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এত রাজস্ব কখনও আদায় হয়নি। বর্তমান কর কাঠামো ও প্রশাসনিক সক্ষমতা দিয়ে এক বছরে রাজস্ব আদায় প্রায় দ্বিগুণ করা সম্ভব নয়। ফলে বাজেটটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী।”

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, বড় বাজেটের সঙ্গে বড় ধরনের দুর্নীতির ঝুঁকিও তৈরি হয়। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী ঋণখেলাপিদের অর্থ পুনরুদ্ধার কিংবা পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেননি।

তিনি ব্যাংকিং খাত, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অসম চুক্তি এবং তরুণদের কর্মসংস্থানকে দেশের অর্থনীতির তিনটি প্রধান সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “সরকার ঘাটতি পূরণে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল হবে। এতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন। ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দলগতভাবে তাদের বিচার হবে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইন প্রয়োগে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।”

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

/এএসএফ