প্রায় ১৯ বছর পর জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৬-০৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এই দুই নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় তাদের নাম কোনো বাজেট বক্তৃতায় স্থান পায়নি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানের কথা তুলে ধরেন।
এর আগে ২০০৬ সালের ৮ জুন বিএনপি সরকারের শেষ বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। ওই বাজেট বক্তৃতায় তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ ও ‘আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি’ হিসেবে উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।
২০০৬-০৭ অর্থবছরের পর দুই বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে মোট ১৬টি বাজেট উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও একটি বাজেট দেওয়া হয়েছিল। এসব বাজেট বক্তৃতার কোনোটিতেই জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় ফেরার পর এটি দলটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “দেশ ও জনগণের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বরাবরই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়েছে।”
২০০৬ সালের বাজেট বক্তৃতা এবং বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেট—উভয় ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা তুলে ধরা হয়েছে।
তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছিলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশ একদলীয় শাসন ও দুর্ভিক্ষে বিপর্যস্ত ছিল। তার নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
অন্যদিকে এবারের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিগত দেড় দশকের আওয়ামী লীগ শাসনামলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট, অর্থ পাচার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল করে দেওয়ার অভিযোগও একাধিকবার উল্লেখ করেন।
/এএসএফ