• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৪ এএম


২,৪০০ কোটি ডলার না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়: ইরান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ জুন ২০২৬ ৮:১৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো শান্তিচুক্তি হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর। এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই।

শুক্রবার (৫ জুন) সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, তাহলে তারা ‘একটি অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করবে’। একই সঙ্গে তিনি চলমান আলোচনায় অচলাবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

মহসেন রেজাই বলেন, ‘আলোচনায় অচলাবস্থা চলছে। এ অচলাবস্থা ট্রাম্পকেই ভাঙতে হবে। বল এখন ট্রাম্পের কোর্টে।’

তেহরানে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কোনো অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অবরুদ্ধ তহবিলের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড় চায় তেহরান। এরপর পরবর্তী ধাপে বাকি জব্দ অর্থও মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে দেশটি।

তবে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আগাম অর্থ ছাড় দিলে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল তারা হারিয়ে ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে, নতুন কোনো চুক্তি হলে তা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির তুলনায় আরও কঠোর ও কার্যকর হতে হবে। পাশাপাশি তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ এড়িয়ে চলতে চান, যা ইরানের কাছে বিপুল অঙ্কের অর্থ হস্তান্তর হিসেবে দেখা যেতে পারে।

রেজাইয়ের মতে, জব্দ করা অর্থ মুক্ত করে দিলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আস্থা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, এটি এমন একটি পরীক্ষা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তীর্ণ হতে হবে।

তার ভাষায়, ‘এটি আমাদের নিজেদের অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের নয়।’

নতুন সংঘাতের হুঁশিয়ারি

সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য নতুন সংঘাত নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মহসেন রেজাই। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরান সংঘাতকে পারস্য উপসাগরের বাইরেও বিস্তৃত করতে পারে।

তার মতে, সে ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি, ভারত মহাসাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত সামরিক অভিযান ছড়িয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে যেসব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে, তার বাইরেও আরও বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তবে তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান

হরমুজ প্রণালির বিষয়ে রেজাই বলেন, এ জলপথের ওপর সার্বভৌমত্ব কেবল ইরান ও ওমানের রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ফি আরোপের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো ‘টোল’ নয়; বরং প্রণালির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ট্রাম্প–মোজতবা বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ

মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য এবং দেশের নীতি নির্ধারণে তার বর্তমান ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রেজাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনির সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট অবস্থান জানান।

রেজাই বলেন, ‘এমন কিছু ঘটবে না। আমরা এখনো আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। ট্রাম্পই আলোচনাকে অচলাবস্থার মধ্যে নিয়ে গেছেন।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, খামেনির সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে বলে মনে হয় এবং তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হলে তিনি সেটিকে সম্মানের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করবেন।

/এসএন