• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম


দুই ঘণ্টা গো'লাগু'লি

জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব ক্যাম্পে হা’মলা, বু’লডো’জার দিয়ে ক্যাম্পের দেয়াল ধ’সিয়ে দিল স’ন্ত্রা’সীরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ মে ২০২৬ ১০:০৭ এএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। পরিকল্পিত এ হামলার সময় র‌্যাব সদস্যদের সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। গত রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গতকাল সোমবার র‌্যাব কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, হামলাকে কেন্দ্র করে যৌথ বাহিনীর চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে ফেলা হয় এবং কয়েকটি কালভার্ট ভেঙে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, বুলডোজার ব্যবহার করে যৌথ বাহিনীর নির্মাণাধীন ক্যাম্পের দেয়ালও ধসিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সকালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। র‌্যাবের দাবি, কুখ্যাত ‘ইয়াসিন বাহিনী’র সদস্যরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত।

ঘটনার বিষয়ে র‌্যাব-৭-এর কমান্ডিং কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, রাত ২টার দিকে সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা নন-লেথাল অস্ত্র, অর্থাৎ প্রাণঘাতী নয় এমন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। পরে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে যৌথ বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক দিয়ে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীত দিকে গেলে পাহাড়ি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যাওয়ার একটি সড়ক দেখা যায়। এলাকাটি মূলত ‘ছিন্নমূল’ ও ‘আলীনগর’—এই দুই অংশে বিভক্ত।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলটি বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারি খাসজমিতে অবৈধ বসতি গড়ে তোলার পাশাপাশি পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, দোকান ও মার্কেট।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি একই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। সে সময় আরও তিনজন র‌্যাব সদস্য ও একজন সোর্স আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করা হলেও এখনো মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এরপর যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরবর্তীতে সরকার সেখানে পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি, কারাগারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এসব কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

একটি সূত্র জানায়, গত ৯ মার্চ পরিচালিত যৌথ অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন, মশিউর রহমান, নুরুল হক ভাণ্ডারি, গাজী সাদেক ও গোলাম গফুরসহ কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, অভিযানের আগে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা রোকনের নিয়ন্ত্রণে ছিল, আর আলীনগর এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছিল ইয়াসিনের হাতে।

/এসএন