• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম


নাটোরে চুরি হওয়া ফ্রিজ মিললো থানার এসআইয়ের বাসায়

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ মে ২০২৬ ১০:৫১ পিএম

নাটোর জেলাজুড়ে মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগ উঠেছে নাটোরের সিংড়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গভীর রাতে চোরকে ছেড়ে দিয়ে চুরি হওয়া একটি ফ্রিজ নিজেই কিনে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিংড়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাটোরের সিংড়া পৌর এলাকার চাঁদপুর মহল্লার বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের মাদকাসক্ত ছোট ছেলে মাসুম আলী প্রায় দেড় মাস আগে তার বড় ভাই মুনছের আলীর বাসা থেকে একটি ফ্রিজসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে চুরি হওয়া ফ্রিজ ও অন্যান্য মালামাল ভ্যানগাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় ভ্যানগাড়িটি আটক করেন সিংড়া থানার এসআই নজরুল ইসলাম। তবে এসময় অভিযুক্ত মাসুম পালিয়ে যায়।প্রত্যক্ষদর্শী সাজু আহমেদ ভুন্ডু ও আবু হানিফ জানান, পুলিশ দেখে পালিয়ে যায় মাসুম।

পরে টহলরত এসআই নজরুল ইসলাম পথচারী দুইজনের সহায়তায় ফ্রিজ ও অন্যান্য মালামাল নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। তাদের দাবি, পরদিন সকালে অভিযুক্ত মাসুম এসআই নজরুল ইসলামের বাসায় গিয়ে চুরির ঘটনা স্বীকার করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে ১১ হাজার ৫০০ টাকায় ফ্রিজটি কিনে নেন।চুরির ঘটনা জানাজানি হলে চুরি যাওয়া মালামাল ফেরত পেতে থানায় যান ভুক্তভোগী পরিবার।ভুক্তভোগী মুনছের আলী বলেন,“আমার আপন ছোট ভাই আমার বাসা থেকে ফ্রিজ চুরি করেছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আমি থানায় গিয়ে চুরি হওয়া মালামাল ফেরতের জন্য অভিযোগ করি।”

মুনছের আলীর মা মর্জিনা বেগম বলেন,“ফ্রিজ চুরির পর সাজুর মাধ্যমে জানতে পারি পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ফ্রিজটি নিয়েছেন। পরে লোকজন ধরে টাকা দিয়ে ফ্রিজটি ফেরত নিতে হয়েছে। গত শনিবার সহকারী পুলিশ সুপার সিংড়া সার্কেল অফিসে আপোষ মীমাংসা শেষে ফ্রিজ ফেরত পেয়েছি।”ঘটনার বিষয়ে জানতে শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একাধিকবার সিংড়া থানায় গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও এসআই নজরুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর থেকেই তিনি নিজেকে আড়াল করে চলছেন এবং নিয়মিত থানায়ও আসছেন না।এ বিষয়ে সিংড়া থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,“তিনি থানার ইনচার্জ। সংবাদ প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। নিউজ করলে পুলিশের বদনাম হবে, পুরো বাহিনীর বদনাম হবে।

আপাতত ক্ষমা করেন।”এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি দ্রুত মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে ডেকে আপোষ করিয়ে দেন সিংড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নূর মোহাম্মদ আলী। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তিনি কিছু জানেন না।

একই সঙ্গে তিনি জানান, মিডিয়ার সঙ্গে তিনি কথা বলেন না এবং এ বিষয়ে জেলা পুলিশের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।নাটোরের পুলিশ সুপার শরীফুল হক জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তে সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/বিএসএস