• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২১ পিএম


গরুর মাংসের স্বাদে বাড়তি ঝাঁজ, ফকিরহাটে চুইঝালের জমজমাট বাজার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ মে ২০২৬ ১২:৪৩ এএম

কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই বাগেরহাটের ফকিরহাট বাজারে জমে উঠেছে চুইঝালের বেচাকেনা। দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এই ঝাঁঝালো মসলা ছাড়া যেন ঈদের গরুর মাংস রান্না অপূর্ণ থেকে যায়। ফলে ঈদকে সামনে রেখে বাজারজুড়ে যেমন বেড়েছে চুইঝালের চাহিদা, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দামও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফকিরহাট বাজারের চুইঝালের দোকানগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। শুধু স্থানীয় ক্রেতাই নন, খুলনা, যশোর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, পিরোজপুর ও নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরাও ভিড় করছেন এ বাজারে।

ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ফকিরহাট বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মণ চুইঝাল কেনাবেচা হচ্ছে। সাধারণ সময়ে প্রতি কেজি চুইঝাল ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন আকার ও মানভেদে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত।

দক্ষিণাঞ্চলে চুইঝালের অন্যতম বড় মোকাম হিসেবে পরিচিত ফকিরহাট বাজার। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এখানে চুইঝাল নিয়ে আসেন। পরে এখান থেকে দেশের নানা অঞ্চলে তা সরবরাহ করা হয়।

ফকিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর শেখ, মামুন শেখ ও ইমন সরদার বলেন, ঈদ এলেই চুইঝালের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় এবার দামও কিছুটা বেশি। বিশেষ করে দেশীয় চুইঝালের কদর বেশি হওয়ায় এর দামও বেশি রাখা হচ্ছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী মজিদ শেখ জানান, তিনি দেশের উত্তরাঞ্চল থেকেও চুইঝাল সংগ্রহ করে ফকিরহাট মোকামে এনে বিক্রি করেন। এখান থেকে আবার বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে চুইঝাল কিনে নিয়ে যান।

মাদারীপুরের ব্যবসায়ী জয়নাল মিয়া বলেন, বাগেরহাটের চুইঝালের আলাদা সুনাম রয়েছে। এখানকার চুইঝালের ঝাঁজ, ঘ্রাণ ও স্বাদ বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। সে কারণেই তিনি ফকিরহাটে চুইঝাল কিনতে এসেছেন।

স্থানীয়দের মতে, চুইঝাল শুধু একটি মসলা নয়, বরং এ অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে গরুর মাংস রান্নায় এটি আলাদা স্বাদ ও ঘ্রাণ যোগ করে। দক্ষিণাঞ্চলের বহু পরিবারে ঈদের রান্না চুইঝাল ছাড়া কল্পনাই করা যায় না।

ফকিরহাটের বাসিন্দা সোহেল শেখ বলেন, চুইঝালের মাংস এখন এ অঞ্চলের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। বিয়ে, দাওয়াত কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠান—সব জায়গাতেই চুইঝালের মাংসের আলাদা কদর রয়েছে।

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চুইঝাল চাষের জন্য ফকিরহাটের চারটি গ্রাম এখন ‘চুইঝালের গ্রাম’ নামে পরিচিত। তিনি জানান, চুইঝাল শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, এটি ঔষধিগুণসম্পন্ন একটি মসলাও। গ্যাসের সমস্যা কমানো, হজমে সহায়তা করা এবং রুচি বাড়াতেও এটি উপকারী।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে চুইঝালের আবাদ হয়েছে। চাহিদা ও বাজারমূল্য ভালো থাকায় দিন দিন এর চাষও বাড়ছে।