ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতার মেয়ের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব।
গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) কালীগঞ্জ উপজেলার বগেরগাছি গ্রামে অনুষ্ঠিত এই বিয়ের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
তথ্য অনুযায়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ে মেহেজাবিন ইসলাম তুলির সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহর বিয়ের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দেন জামায়াতের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব।
বিয়ে বাড়িতে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তবিবুর রহমান মিনি, জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিজু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জামান ওদু, আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেনসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
অনুষ্ঠানে শিবির কর্মী হত্যা মামলার আসামি ও রাখালগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মন্টুকে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে দেখা যায়। এ সময় সংসদ সদস্য আবু তালিবকে তিনি নিজ হাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন—এমন একটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের এক কর্মী বলেন, “শিবির কর্মী হত্যা মামলার আসামির মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে গেলেন। এটা একদমই লজ্জার বিষয়।”
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ কালীগঞ্জ মাহতাব উদ্দিন কলেজের পূর্ব গেট এলাকা থেকে শিবিরকর্মী শামীমকে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে একই বছরের ১৩ এপ্রিল যশোর সদরের লাউখালী গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকা থেকে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিহত শামীমের বাবা রুহুল আমিন কালীগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মহিদুল ইসলাম মন্টুসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব বলেন, “রাখালগাছি ইউনিয়নে আমার গ্রামের বাড়ি। সামাজিক সম্পর্কের কারণেই অনুষ্ঠানে গিয়েছি। মামলার ভুক্তভোগী পরিবার যেন সঠিক বিচার পায়, সে ব্যবস্থাও করা হবে।”
/এসএন