• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম


ডিজিটাল আসক্তি থেকে মুক্তির ৬ উপায়

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ মে ২০২৬ ৯:২৬ পিএম

বর্তমান সময়ে অনেকের দিনের শুরু হয় একইভাবে—ঘুম থেকে উঠেই হাতে মোবাইল ফোন। এরপর মেসেজ দেখা, নোটিফিকেশন চেক করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় স্ক্রল করা যেন দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। দিনের শেষে চোখে জ্বালা, মাথা ভারী লাগা এবং অকারণ অস্থিরতা—এসব লক্ষণ এখন খুব পরিচিত। আধুনিক জীবনের এই নীরব সমস্যাকেই বলা হচ্ছে ‘ডিজিটাল ক্লান্তি’।

কাজ, বিনোদন ও যোগাযোগ—সবকিছু যখন স্ক্রিননির্ভর হয়ে উঠেছে, তখন শরীর ও মনের ওপর চাপ পড়া স্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা সম্ভব না হলেও কিছু সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে এই ক্লান্তি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

প্রথমত, দিনের শুরুটা স্ক্রিন দিয়ে নয়, নিজের মতো করে করা উচিত। ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন করে কিছু সময় নিজের জন্য রাখা যেতে পারে। জানালার আলো উপভোগ করা, হালকা ব্যায়াম করা বা এক কাপ চা পান—এসব ছোট অভ্যাস মনকে শান্ত রাখে এবং দিনটি ইতিবাচকভাবে শুরু করতে সাহায্য করে।

দ্বিতীয়ত, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখ ও মস্তিষ্কে চাপ পড়ে। তাই প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পরপর অল্প সময়ের বিরতি নেওয়া জরুরি। এই সময়টুকুতে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া এবং কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে মনোযোগও বাড়ে।

তৃতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা যেতে পারে। এতে বারবার ফোন চেক করার প্রবণতা কমে এবং মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। একই সঙ্গে অকারণ মানসিক চাপও কমে যায়।

চতুর্থত, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো ঘুমের মান নষ্ট করে। এর পরিবর্তে বই পড়া বা হালকা গান শোনা শরীর ও মনকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।

পঞ্চমত, অনলাইন জগতের বাইরে বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পরিবার, বন্ধু ও কাছের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা প্রকৃত প্রশান্তি এনে দেয়।

ষষ্ঠত, কিছু নির্দিষ্ট জায়গাকে ‘নো-ডিভাইস’ জোন হিসেবে নির্ধারণ করা যেতে পারে। যেমন—বিছানা বা ডাইনিং টেবিলে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার না করা। এতে জীবনে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য তৈরি হয়।

প্রযুক্তি আজ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে এর সচেতন ব্যবহারই পারে ডিজিটাল আসক্তি কমিয়ে জীবনকে আরও সুস্থ, স্বাভাবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলতে।