• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম


ওপেক ছাড়ল ইউএই, তেলের বাজারের ভবিষ্যত কী?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৯:২৬ পিএম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার মধ্যেই বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোর প্রভাবশালী জোট ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে নিজেদের সদস্যপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা WAM এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আঞ্চলিক সংঘাত, বিশেষ করে ইরান-কে ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আর সেই প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানির প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী এখন ঝুঁকির মুখে। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং হামলার আশঙ্কায় তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, চলমান উত্তেজনার সময়ে ইরানের সম্ভাব্য হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলো যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই অসন্তোষই দেশটির জোট ছাড়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসে এই জোটভুক্ত দেশগুলো থেকে। ফলে আমিরাতের মতো বড় উৎপাদক দেশের প্রস্থান বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত দেশটির দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে দেশীয় জ্বালানি উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বিশ্ববাজারে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়া, হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার কথাও জানিয়েছে আমিরাত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং তেলের দামে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।