পূর্ব উপকূলের সমুদ্র লক্ষ্য করে আবারও একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। এর ফলে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি ৯০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে গিয়ে পড়ে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি শনাক্ত করার কথা নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস)। এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
জাপানের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী তাকাশি কোয়ারি জানান, পিয়ংইয়ং থেকে ১৭ মিনিটের ব্যবধানে অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। দ্বিতীয়টি অস্বাভাবিক গতিপথে ৯১০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেয়। দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর কোরিয়ার নতুন হাইপারসনিক অস্ত্র হতে পারে বলে ধারণা করছে টোকিও।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রকৃত ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের মুখপাত্র জাং দো-ইয়ং বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক মহড়া ও শক্তি প্রদর্শনের জবাব হিসেবেই পিয়ংইয়ং এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের উপস্থিতিতে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়।
এর জের ধরেই উত্তর কোরিয়া নতুন করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়াও একটি মধ্যমপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল।
সম্প্রতি দুই দেশের অসামরিকীকৃত অঞ্চলে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পিয়ংইয়ং ও সিউলের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে দেওয়া সব প্রস্তাবই ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন।
এমন পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ উত্তর-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনাকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
/এএসএফ