ইয়েমেনের ইরানপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত ৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি, সৌদিয়ার ৪টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, সালাম এয়ারের ৩টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি এবং ফ্লাই দুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিল এবং সময়সূচিতে পরিবর্তনের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে যাত্রাপথ ও ভ্রমণসূচি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা।
বেবিচক জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি নির্ধারণের কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে পাঁচবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক পাইলটসহ সৌদি আরবের তিন নাগরিক নিহত হন। হুথিরা ওই দিন বিমানবন্দরের অবকাঠামোর পাশাপাশি সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজকেও লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে ওই পাইলটের মৃত্যু হয়।
এরপর শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিন বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রীসহ মোট ১৩ জন নিহত হন। এই ঘটনার পরপরই রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিমানবন্দরে হামলা ও পরবর্তী বিধিনিষেধের প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের সৌদিগামী এবং ট্রানজিট ফ্লাইট চলাচলেও।
/এসএন