• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম


২ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই ডুবল চট্টগ্রাম, দুর্ভোগ চরমে

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ৭:২২ পিএম

মাত্র সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নগরের প্রবর্তক মোড় এলাকায় দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র—ঘন কালো পানির নিচে তলিয়ে গেছে সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশ। এতে প্রাইভেট কার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চাকা ডুবে যাচ্ছে, আর গাড়ির ধাক্কায় পানির ঢেউ গিয়ে লাগছে পাশের দোকানপাটে।

সড়কের দুই পাশের ফুটপাতও পানির নিচে ডুবে থাকায় পথচারীদের চলাচল হয়ে উঠেছে অত্যন্ত দুরূহ। কেউ জুতা হাতে নিয়ে কাপড় গুটিয়ে পানিতে নেমেছেন, আবার কেউ ঝুঁকি নিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট—সড়কের দুপাশে দীর্ঘ গাড়ির সারিতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিন্তু এত অল্প বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। স্থানীয়রা বলছেন, হিজড়া খালের সম্প্রসারণ কাজ চলার কারণে খালের মুখে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে খাল থেকে উপচে পানি সরাসরি সড়কে চলে আসছে।

প্রবর্তক এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকেই জিইসি মোড়, গোলপাহাড়সহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়। জিইসি মোড় থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত অল্প দূরত্ব পার হতে সময় লেগেছে এক ঘণ্টারও বেশি।

সড়কে পানি জমে থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এক পথচারী জানান, “এখন সড়ক বিভাজক দিয়ে না গেলে উপায় নেই, কিন্তু সেখানে মানুষের ভিড়।” আরেকজন গাড়িচালক বলেন, “প্রতি বর্ষায় এখানে হাঁটু থেকে গলাসমান পানি হয়, কিন্তু এবার তো বর্ষার আগেই প্রতিদিন পানি উঠছে।”

দোকানিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একজন ব্যবসায়ী বলেন, পানি উঠলে বেচাকেনা বন্ধ রাখতে হয়, ফলে আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, হিজড়া খালটি দীর্ঘদিন দখলের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। প্রকৃত প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট হলেও অনেক জায়গায় তা ১২-১৫ ফুটে নেমে এসেছে। খাল পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে, যা সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড বাস্তবায়ন করছে।

সামান্য বৃষ্টিতেই এমন পরিস্থিতি নগরবাসীর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।