• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৬ এএম


কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপেই বছরে ৮ লাখ ৪০ হাজার মৃত্যু

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ৬:৫৩ পিএম

কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ ও অনিরাপদ পরিবেশ বিশ্বজুড়ে এক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজের চাপ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, চাকরির অনিশ্চয়তা ও কর্মস্থলে হয়রানির কারণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ মারা যান। এসব কারণ হৃদরোগ, মানসিক অসুস্থতা এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শুধু মৃত্যুই নয়, এসব সমস্যার কারণে বছরে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ বছর সুস্থ জীবন হারিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ১.৩৭ শতাংশ ক্ষতি হয়।

প্রতিবেদনটি বলছে, কর্মপরিবেশের মানসিক দিক বা ‘মনস্তাত্ত্বিক কর্মপরিবেশ’ এখন কর্মীদের স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। এটি মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—কাজের ধরন, কাজের ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিষ্ঠানের নীতি। কাজ কতটা চাপের, কর্মীর দক্ষতার সঙ্গে মিলছে কিনা, পর্যাপ্ত সহায়তা ও উপকরণ আছে কিনা—এসব কাজের ধরনে পড়ে। আবার দায়িত্ব বণ্টন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা, সহকর্মীদের সহযোগিতা—এসব ব্যবস্থাপনার অংশ। পাশাপাশি চাকরির নিরাপত্তা, সময়সূচি, মূল্যায়ন ব্যবস্থা ও হয়রানি প্রতিরোধ নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আইএলও তাদের হিসাব নির্ধারণে পাঁচটি বড় ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়েছে—অতিরিক্ত কাজের চাপ, প্রচেষ্টা ও পুরস্কারের অসামঞ্জস্য, চাকরির অনিশ্চয়তা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানি। এসব ঝুঁকির সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত স্বাস্থ্যঝুঁকি (যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক ও মানসিক রোগ) মিলিয়ে মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রের খারাপ মানসিক পরিবেশ শুধু মানসিক নয়, শারীরিক সমস্যাও তৈরি করে—যেমন বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি, পেশী ও হাড়ের ব্যথা এবং ঘুমের সমস্যা। ফলে কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়, যার প্রভাব সরাসরি অর্থনীতিতে পড়ে।

প্রতিবেদনটির উপসংহারে বলা হয়েছে, সরকার, প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে হবে। প্রযুক্তির উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রিমোট কাজের মতো পরিবর্তনগুলো সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা গেলে কর্মপরিবেশ আরও নমনীয় ও স্বাস্থ্যকর করা সম্ভব। অন্যথায় এসব নতুন পরিবর্তন মানসিক চাপ আরও বাড়াতে পারে।

সর্বোপরি, একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ শুধু কর্মীদের সুস্থ রাখে না, বরং উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে—এমনটাই মনে করছে আইএলও।

সূত্রঃ আইএলও প্রতিবেদন