ছবি: সংগৃহীত
গরম শুরু হতেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে, যার ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, সেচ কার্যক্রম ও উৎপাদন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বর্তমানে দেশে আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকলেও রাজধানী ঢাকায় তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক। এ কারণে গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, বৈষম্য কমাতে ঢাকাতেও পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং চালু করা হবে। তিনি সংসদে বলেন, প্রয়োজন হলে শহরেও লোডশেডিং করা হবে, যাতে বিদ্যুৎ বণ্টনে ভারসাম্য আনা যায়।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজধানীতে সীমিত আকারে লোডশেডিং করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং করা হতে পারে, বিশেষ করে দুপুরের দিকে। তবে সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান বলেন, এমনভাবে লোডশেডিং করা হবে যাতে কোনো এলাকায় এক ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না থাকে এবং একই এলাকায় বারবার লোডশেডিং না পড়ে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে উৎপাদনে ব্যাঘাত না ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ বণ্টনের ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনীতি, উৎপাদন খাত ও মানবিক বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সেচ কার্যক্রম, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ চাহিদা সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।