করোনাভাইরাস মহামারির সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধিনিষেধে মসজিদে মুসল্লিদের জায়গার সংকট দেখা দিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের রমজান মাসে মুসলিমদের জুমার নামাজ আদায়ের জন্য নিজেদের গির্জার দরজা খুলে দিয়েছিল জার্মানির বার্লিনের একটি লুথেরান গির্জা। ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবিক সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ঘটনাটি প্রশংসিত হয়।বার্লিনের নয়কোলন এলাকায় অবস্থিত দার আসসালাম মসজিদে সাধারণত শত শত মুসল্লি নামাজ আদায় করতেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম কার্যকর থাকায় একসঙ্গে মাত্র ৫০ জনের মতো মুসল্লির নামাজ আদায়ের সুযোগ ছিল। ফলে বিশেষ করে রমজান মাসে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার সংকট তৈরি হয়।এ পরিস্থিতিতে কাছাকাছি অবস্থিত মার্থা লুথেরান চার্চ মুসলিমদের জন্য নিজেদের প্রার্থনাকক্ষ ব্যবহারের সুযোগ দেয়। গির্জার ভেতরে মুসল্লিরা আরবি ভাষায় জুমার নামাজ আদায় করেন। তাঁদের মাথার ওপরে ছিল ভার্জিন মেরির ছবি সংবলিত রঙিন কাচের জানালা, যা পুরো আয়োজনকে বিশেষ তাৎপর্য দেয়।দার আসসালাম মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ তাহা সাবারি এ উদ্যোগকে কঠিন সময়ে সংহতি ও সহমর্মিতার নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, সংকটের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানো মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।গির্জার যাজক মনিকা ম্যাথিয়াসও মুসলিমদের নামাজের আয়োজনে অংশ নেন। ভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছ থেকে শেখা, তাঁদের বিশ্বাসকে বোঝা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।২০২০ সালের মে মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে ঘটনাটি উঠে আসে। করোনার বিধিনিষেধের মধ্যে ধর্মীয় উপাসনালয়ের সীমিত সক্ষমতা যে মানুষের ধর্মীয় চর্চায় বাধা তৈরি করেছিল, এ উদ্যোগ তার একটি বাস্তব উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দেয়, সংকটের সময় ধর্মীয় পরিচয়ের সীমা পেরিয়ে সহযোগিতা ও মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
/বিএসএস