ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভস্থল বন্ধ করে দেওয়া এবং দলের নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেশজুড়ে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামে পতাকা মিছিল কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এ কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দিল্লির কনট প্লেস এলাকার সেন্ট্রাল পার্কে শুক্রবার বিকেল ৫টায় সমর্থকদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দীপকে। যাঁরা দিল্লিতে যেতে পারবেন না, তাঁদের নিজ নিজ শহরে জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল আয়োজনের অনুরোধ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দীপকে বলেন, ‘আমরা তাদের জানিয়ে দেব, তিরঙ্গা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়।’
সিজেপির দুই সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিল্লির জনপ্রিয় বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তর থেকে তাঁদের আটক করা হয়েছিল।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, কারাগারে দুই নেতা
সিজেপির দুই নেতার বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশ, জামিনের শর্ত লঙ্ঘন এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাঁদের দিল্লির তিহার কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দিল্লি পুলিশ জানায়, বিক্ষোভ আয়োজনের নির্ধারিত স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে। ফলে সেখানে আর বিক্ষোভ আয়োজনের অনুমতি থাকছে না।
এ সিদ্ধান্ত এবং নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদেই দেশজুড়ে পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিজেপি।
‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার আন্দোলনকে শক্তিশালী করবে’
তিহার কারাগারে নেওয়ার আগে সিজেপি নেতা আশুতোষ রানা বলেন, তাঁদের লড়াই সাংবিধানিক জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা রক্ষার জন্য।
তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভস্থল বন্ধ করে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করা জনগণের অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।’
সিজেপি নেতাদের দাবি, তাঁদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা। শান্তিপূর্ণভাবে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সীমিত করতে প্রশাসন পুলিশি পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
পতাকা মিছিলে বিরোধী নেতাদের সমর্থন
সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনায় ভারতের একাধিক বিরোধী নেতা সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, এনসিপি (শরদচন্দ্র পাওয়ার) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ মহুয়া মৈত্র, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ডিএমকে সভাপতি এম কে স্ট্যালিন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে তাঁরা সিজেপি নেতাদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।
রাহুল গান্ধী তাঁর পোস্টে বলেন, ‘জন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ত্রিবর্ণরঞ্জিত জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এ জন্য তরুণদের কারাগারে পাঠানো কাপুরুষতার কাজ।’
তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার বৃহত্তর দাবিতে শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংবাদিক এবং বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স) শরিক দলগুলো ভিন্ন ব্যানারে কাজ করলেও তাদের লক্ষ্য অভিন্ন।
যন্তর মন্তরকে ভারতের জনগণের জায়গা উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমরা এটি পুনরুদ্ধার করব।’
নেতাদের গ্রেফতার ও বিক্ষোভস্থল বন্ধের প্রতিবাদে শুক্রবারের পতাকা মিছিল কর্মসূচিকে সামনে রেখে সিজেপি সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় পতাকা হাতে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লির বাইরে থাকা সমর্থকদের নিজ নিজ শহরে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করা হয়েছে।
/এএসএফ