• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম


মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিকদের সুখবর, বেতন বাড়ছে ২০২৭ সালের জুনে

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৫৭ পিএম

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে, ২ হাজার রিঙ্গিত পাবেন শ্রমিকরা

বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিকদের জন্য সুখবর দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। দেশটিতে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন এই মজুরিকাঠামো ২০২৭ সালের জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের বাজেট সংসদে উপস্থাপনের সময় ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ঘোষণা দেন। নতুন এই মজুরিহারের ফলে ৪০ লাখেরও বেশি কর্মী উপকৃত হবেন বলে আশা করছে সরকার।

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরির বিধান বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকেরা দেশটির স্থানীয় কর্মীদের মতোই আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি পাওয়ার অধিকারী।

মালয়েশিয়া ২০১৩ সালে ন্যূনতম মজুরি নীতি চালু করে। তখন মাসিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯০০ রিঙ্গিত। এরপর ২০১৬ সালে তা বাড়িয়ে ১ হাজার রিঙ্গিত, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০ রিঙ্গিত, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০ রিঙ্গিত এবং ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত করা হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত। নতুন ঘোষণা কার্যকর হলে এই হার বেড়ে দাঁড়াবে ২ হাজার রিঙ্গিতে।

তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন মজুরিহার কার্যকরে ছাড়ের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, যেসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেন ৫ কোটি রিঙ্গিতের নিচে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসায়িক কাঠামোর সঙ্গে নতুন নিয়ম মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতেই এ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও মজুরির মধ্যকার ব্যবধান কমানো প্রয়োজন। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আয় তাল মেলাতে না পারায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। মজুরি কাঠামোর উন্নয়নে সরকার আধা-দক্ষ কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের জন্য ন্যূনতম মাসিক বেতন ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নির্ধারণের পরিকল্পনাও করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ন্যূনতম মজুরি শ্রমিকদের আয়ের সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করে। কিন্তু দক্ষ শ্রমিকেরা এখনো তাঁদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার অনিবন্ধিত বিদেশি কর্মী নিয়োগ ঠেকাতে করবিধি আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থা অনুযায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য সংস্থাকে মজুরি ব্যয়ের ওপর করছাড় পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য কর্মসংস্থান আইনে অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে হবে।

মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক নেপালি শ্রমিকের পাশাপাশি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরা কাজ করছেন। নতুন মজুরিহার কার্যকর হলে ন্যূনতম মজুরি নীতির আওতাভুক্ত এসব বিদেশি শ্রমিকের আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নতুন হার কার্যকর হতে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ঘোষিত ছাড়ের কারণে সব শ্রমিক একইভাবে এ সুবিধার আওতায় আসবেন না।

/এএসএফ