• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম


সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় কবি অ্যান কারসন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৬:৪২ পিএম

এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কারসন। কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ ও গবেষণাধর্মী লেখার প্রচলিত সীমানা পেরিয়ে নতুন সাহিত্যিক রূপ তৈরির জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ৭৬ বছর বয়সী এই সাহিত্যিককে ‘সাহসী ও সৃজনশীল’ সাহিত্যকর্মের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। সুইডিশ একাডেমির ভাষ্য, ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে কারসন সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন নতুন রূপ তৈরি করেছেন।

সাহিত্যে নোবেল মূলত একজন সাহিত্যিকের সামগ্রিক সৃষ্টিকর্মের স্বীকৃতি। এ পুরস্কার বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মান। ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান।

অ্যান কারসন শুধু কবি ও প্রাবন্ধিক নন, প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের অনুবাদক হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে। কবিতা লেখার পাশাপাশি অনুবাদ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজও দীর্ঘ সময় ধরে করেছেন তিনি। তার সাহিত্যকর্মে শব্দের ব্যুৎপত্তি, ধ্রুপদি সাহিত্য এবং নতুন অর্থ সৃষ্টির প্রতি বিশেষ আগ্রহ লক্ষ করা যায়।

অ্যান কারসনের পুরো নাম অ্যান প্যাট্রিসিয়া কারসন। ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কর্মজীবনের বড় অংশজুড়ে কবিতা লেখা, অনুবাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ একসঙ্গে করেছেন। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও ভাষা নিয়ে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

তার লেখায় প্রাচীন গ্রিক পুরাণ, দর্শন ও আধুনিক মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতির মেলবন্ধন দেখা যায়। কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ, কথাসাহিত্য ও অন্যান্য সাহিত্যিক রীতির সীমানা পেরিয়ে তিনি নিজস্ব লেখার ধরন তৈরি করেছেন। ধ্রুপদি সাহিত্যের উপাদানকে নতুনভাবে ব্যবহার করে সমকালীন সাহিত্যে ভিন্নধর্মী প্রকাশভঙ্গি তৈরির জন্যই তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।

অ্যান কারসনের উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ (১৯৮৬), ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ (১৯৯৮), ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাসবেন্ড’ (২০০১) এবং ‘নক্স’ (২০১০)।

‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ গ্রিক পুরাণের কাহিনি অবলম্বনে লেখা একটি উপন্যাস-কবিতা। এতে প্রাচীন গ্রিক পুরাণের চরিত্রকে আধুনিক সাহিত্যিক প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাসবেন্ড’ দাম্পত্য ও প্রেমের জটিলতা নিয়ে লেখা একটি ব্যতিক্রমী রচনা। আর ‘নক্স’ তার প্রয়াত ভাই মাইকেলের স্মৃতিকে ঘিরে তৈরি বিশেষ ধরনের শোকগাঁথা, যেখানে চিঠি, ছবি ও অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে সাহিত্যকে মিলিয়েছেন তিনি।

কারসনের সাহিত্যকর্মে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার অনুবাদগুলোও কেবল অনুবাদ হিসেবে নয়, স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে। কবিতা, গদ্য, সংলাপ ও অনুবাদের সমন্বয়ে তার অনেক কাজ প্রচলিত সাহিত্যিক শ্রেণিবিন্যাসকে অতিক্রম করেছে।

সাহিত্যে অবদানের জন্য অ্যান কারসন এর আগে ম্যাকআর্থার ফেলোশিপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন। এবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যে তার স্বতন্ত্র ও উদ্ভাবনী কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আরও দৃঢ় হলো।

/এএসএফ