• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৮ এএম


সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন, এলো ২.৭৬ বিলিয়ন ডলার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১১ পিএম

সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয় ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ৩ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।

গত বছরের অক্টোবরে রেমিট্যান্স আয় ছিল ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। সেটিই ছিল আগের ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মাসিক রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতি অব্যাহত রয়েছে। টানা চতুর্থ মাসে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স আয় আগস্টের ২ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। আগস্টে রেমিট্যান্স আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছিল। একই সঙ্গে আগস্টের আয় জুলাইয়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি ছিল। ফলে সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির মাসভিত্তিক গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তবে পুরো প্রান্তিকের হিসাবে রেমিট্যান্সের প্রবাহ দুর্বল হয়নি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৮ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এক বছর আগে একই সময়ে এসেছিল ৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে প্রথম প্রান্তিকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে প্রান্তিকভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এর গতি কমেছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে দায়ী করছেন। মে মাস থেকে রেমিট্যান্স আয় প্রত্যাশিত মাত্রার নিচে রয়েছে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত থাকায় ওই অঞ্চলের অস্থিরতা তাঁদের আয়, কর্মসংস্থান এবং দেশে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রেমিট্যান্সে এই ধীরগতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ব্যাংকারদের মতে, রপ্তানি আয় কমে যাওয়া এবং আমদানি ব্যয় বেশি থাকার সময়ে আমদানি বিল ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধসহ দেশের বৈদেশিক লেনদেনের চাপ সামলাতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে।

ব্যাংকার ও এক্সচেঞ্জ হাউস কর্মকর্তারা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের পুনরুদ্ধারের গতি অনেকাংশে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের কতটা আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আসে, তার ওপর নির্ভর করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত মাসিক রেমিট্যান্স তথ্যেও সাম্প্রতিক মাসগুলোর ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্সের পরিমাণ জুলাইয়ে ২ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং আগস্টে প্রায় ২ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল; সেপ্টেম্বরে তা আরও কমে ২ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

/এএসএফ