মরক্কোর রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ফাতেমা জাহরা এল মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন।
ফাতেমা জাহরা এল মানসুরি মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হলেন। এর আগে তিউনিসিয়ার নাজলা বাউডেন আরব বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মরক্কোর সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া রাজনৈতিক দলের মধ্য থেকেই রাজাকে সরকারপ্রধান নিয়োগ করতে হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ফাতেমা জাহরার দল ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএএম) ৩৯৫ আসনের মধ্যে ৯৭টি পেয়ে সবচেয়ে বেশি আসন অর্জন করে।
তবে পিএএম একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮ আসনের তুলনায় দলটির আসন সংখ্যা অনেক কম। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে।
নিয়োগের পর টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ফাতেমা জাহরা এল মানসুরি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবার একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন এবং এটি শুধু তাঁর জন্য নয়, মরক্কোর সব নারীর জন্যও গর্বের বিষয়।
৫০ বছর বয়সি আইনজীবী ফাতেমা জাহরা এল মানসুরি মরক্কোর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি পিএএমের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং এর আগে দেশটির আবাসন ও নগরনীতি বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি মারাকেশের মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর উত্থানও উল্লেখযোগ্য। ২০০৯ সালে তিনি মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হন। পরে ২০২১ সালে আবারও শহরটির মেয়র নির্বাচিত হন। এর পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
পিএএম ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটি এবারের সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ায় ফাতেমা জাহরার সরকারপ্রধান হওয়ার পথ তৈরি হয়।
নতুন সরকার গঠনের পাশাপাশি ফাতেমা জাহরার সামনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রথমেই তাঁকে পিএএমের সঙ্গে অন্য দলগুলোর সমন্বয়ে একটি জোট সরকার গঠন করতে হবে। কারণ তাঁর দল এককভাবে সরকার পরিচালনার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেনি।
অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও তরুণদের অসন্তোষও নতুন সরকারের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ, যা ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিও নতুন সরকারের বড় দায়িত্ব। মরক্কো স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে ওই বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। বিশ্বকাপকে ঘিরে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ বাস্তবায়নের দায়িত্বও সরকারের ওপর থাকবে।
ফাতেমা জাহরার নেতৃত্বে নতুন সরকার কবে গঠিত হবে এবং কোন কোন দল জোটে যুক্ত হবে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
/এএসএফ