অনলাইন ফ্যাশন পেজ থেকে শাড়ি নিয়ে প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। তিনি বলেছেন, মামলায় অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলা হয়েছে এবং শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণার মতো কোনো কাজ তিনি করেননি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন বর্ধিত করার আবেদন করেন তানজিন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন বর্ধিত করার আদেশ দেন।
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তানজিন তিশা বলেন, “মামলায় অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি শাড়ি আত্মসাৎ বা এটা নিয়ে প্রতারণা, এমন কিছুই করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ১৫ বছরের ক্যারিয়ার। একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসব, এটা কাম্য নয়।”
তানজিন তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিন বর্ধিতের পরবর্তী তারিখ এবং চার্জ শুনানির তারিখ আদালত থেকে বিকেলে জানা যাবে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ২০২৫ সালের নভেম্বরে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ডিবি পুলিশ তিশার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত তাকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন।
এর আগে গত ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তানজিন তিশা। পরবর্তী বিচারের জন্য মামলাটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন তানজিন তিশা। তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন বর্ধিত করার আবেদন করেন। এ সময় তিনি বেঞ্চে বসেছিলেন। তবে বাদীপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর জন্য বলা হলে পরে তিনি কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান।
তানজিন তিশার পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী খোরশেদ আলম জামিন বর্ধিত করার বিষয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, “আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। তার জামিন বর্ধিতের আবেদন করছি।”
অন্যদিকে বাদীপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী জহিরুল হাসান মুকুল বলেন, “এ আসামি জামিন নেওয়ার পর জামিনের অপব্যবহার করেছেন। জামিন পেয়েই আসামি তার ভেরিফাইড পেজ থেকে আইনজীবী ও বাদী সম্পর্কে আজেবাজে মন্তব্য করেছেন। তার ভেতর কোন অনুশোচনাবোধ নেই।”
এ সময় বিচারক তাকে বলেন, “অভিযোগ থাকলে পিটিশন আকারে দেন।”
জবাবে জহিরুল হাসান মুকুল বলেন, “চার্জের জন্য আছে। চার্জ হয়ে যাক। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে।”
এরপর তানজিন তিশার পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী খোরশেদ আলম বলেন, “ডিসচার্জের যথেষ্ট গ্রাউন্ড আছে। আমাদের সময় দিন।”
দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তানজিন তিশার জামিন বর্ধিত করার আদেশ দেন। তবে মামলার পরবর্তী তারিখ আদালতের পক্ষ থেকে তখনও জানানো হয়নি।
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তানজিন তিশা বলেন, “অনেকের মনে হতে পারে আমি আবারও আদালতে আসলাম কেন? কারণ হলো, আমি আইনের প্রতি বিশ্বাস করি। আইনের প্রতি আমার যে বিশ্বাস আছে, সে বিশ্বাস থেকে আমি আবারো আসছি এবং আমার যদি আরো পাঁচবার আসা লাগে, আমি আবারও আসব। দিনশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, আমরা এদেশে বাঁচতে চাই এবং সত্যতা নিয়ে বাঁচতে চাই। কেউ যদি আইনের অপব্যবহার করে, আমি সেটা কোনভাবে সাপোর্ট করি না।”
তিশা আরও বলেন, “তারা দুই বোন (মামলার বাদী) এবং এটা আপনারা হয়তো জানেন না তারা একটা সিন্ডিকেট। আমি আসলে এত কমপ্লিকেটেড ওয়েতে চিন্তাই করতে পারি না। আমি শুধু জানি যে ক্ষমতার অপব্যবহার করা উচিত না। আমার কোনো ক্ষমতা নেই।”
তিনি বলেন, “২৮ হাজার টাকার একটা শাড়ি নাকি আত্মসাৎ করেছি। আমার ১৫ বছরের একটা ক্যারিয়ার। এটা কারও কাছে কাম্য নয়, একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসব। আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই আদালতে এসেছি।”
নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে তানজিন তিশা বলেন, “মামলায় অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণা, এমন কিছুই করিনি।”
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। শাড়িটির প্রচারণা এবং মূল্য পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালে অনলাইন ফ্যাশন পেজটির এডমিন আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন।
/এসএন