• ঢাকা
  • রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ এএম


লিগ্যাল অফিসার হিসেবে যেসব দায়িত্ব পালন করবেন জাইমা রহমান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:৫০ পিএম

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের ব্যারিস্টার ও আইন-পেশাজীবী জাইমা রহমান। জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় তাঁর নাম, পদবি ও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সভাপতির কার্যালয়ের সিনিয়র ক্যাবিনেটের অধীনে কাজ করছেন।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।জাইমা রহমানের নিয়োগের পর লিগ্যাল অফিসার হিসেবে তাঁর দায়িত্ব কী এবং সভাপতির কার্যালয়ে তিনি কী ধরনের আইনি কাজে সহায়তা করবেন, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।লিগ্যাল অফিসারের দায়িত্ব কীসাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসারের মূল কাজ হলো সভাপতির দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি ও বিধিগত বিষয়গুলোতে সহায়তা করা। সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার সময় কোনো প্রস্তাব, সংশোধনী, নিয়ম বা পদ্ধতি নিয়ে আইনি প্রশ্ন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট বিধি ও নিয়মের আলোকে তা পর্যালোচনায় সহায়তা করা এ দায়িত্বের অংশ।কোনো সদস্যরাষ্ট্র ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তুললে সেটির ক্ষেত্রে সভাপতির সিদ্ধান্ত বা রুলিং দেওয়ার সময় প্রাসঙ্গিক নিয়ম ও পদ্ধতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে কোনো প্রস্তাব বা সংশোধনী গ্রহণযোগ্য কি না কিংবা কোনো কার্যক্রম জাতিসংঘের প্রযোজ্য বিধি ও পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—এসব বিষয়েও আইনি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশনে ফিলিস্তিন, ইউক্রেনসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসব কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সনদ, সাধারণ পরিষদের কার্যপ্রণালি বিধি এবং প্রতিষ্ঠিত নজির অনুসরণে সভাপতির কার্যালয়কে আইনি সহায়তা দেওয়াও লিগ্যাল অফিসারের কাজের অংশ হতে পারে।এ ছাড়া কোনো প্রস্তাব বা রেজুলেশন বিদ্যমান বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ প্রয়োজন কি না কিংবা কোনো প্রশাসনিক বা বাজেটসংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন দরকার কি না—এ ধরনের আইনি বিষয় পর্যালোচনাতেও লিগ্যাল অফিসার ভূমিকা রাখতে পারেন।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের দলটি বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত। অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে ৪০ জন সহকর্মী সাতটি দলে কাজ করছেন এবং সেখানে ২৯টি জাতীয়তার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।জাইমা রহমান ছাড়াও বাংলাদেশের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা এই কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের তালিকায় মোয়াজ্জেম হোসেনকে অ্যাডভাইজার অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।কীভাবে এই ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হয়জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয় সভাপতিকে তাঁর দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে। বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করার জন্য সেখানে কূটনীতি, প্রশাসন, নীতি ও আইনের মতো ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে দল গঠন করা হয়।জাইমা রহমানকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতি বিষয়ে পেশাজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে কাজের অভিজ্ঞতার কথাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।জাইমা রহমানের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাজাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টারি পেশায় প্রবেশের জন্য দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পলের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশেও আইন পেশায় তাঁর কাজের অভিজ্ঞতার কথা জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে যুক্তরাজ্যে আবাসন, কল্যাণ ও কর্মসংস্থান আইন নিয়ে কাজের বিষয় রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ ও জনসংযোগের কাজ এবং সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষা আইনে বিনামূল্যে আইনি সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।বাংলাদেশে তিনি স্যেদ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে সাংবিধানিক, করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং করসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করেছেন বলে জাতিসংঘের প্রোফাইলে উল্লেখ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা সুরভির বোর্ডেও দায়িত্ব পালন করছেন।সব মিলিয়ে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমানের দায়িত্বের কেন্দ্রবিন্দু হবে সভাপতির কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় আইনি ও বিধিগত সহায়তা দেওয়া। জাতিসংঘের সনদ, সাধারণ পরিষদের কার্যপ্রণালি, সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার আলোকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সভাপতির কার্যালয়ের কাজকে সহায়তা করবেন।

/বিএসএস