• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম


ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় নতুন উদ্যোগ, বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয় বহন করবে সরকার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৮ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য শয্যা বা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকলে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রোগীর চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভা শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালের একটি পাইলটিং কার্যক্রম হচ্ছে। কোনো সরকারি হাসপাতালে শয্যা বা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অন্য কোনো সুবিধার সংকুলান না হলে রোগীদের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসার খরচ সরকার বহন করবে।

ডেঙ্গু চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন ও পরীক্ষার কিট পর্যাপ্ত রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ যে তথ্য দিয়েছে, সে অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে স্যালাইনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু শনাক্তের পরীক্ষার কিটও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন এলাকাগুলোতে উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, আগে উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, যেসব উপজেলা ‘রেড মার্কিং’ করা হয়েছে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী শয্যা সংখ্যা বাড়াতে হবে। কোনো উপজেলায় পাঁচটি শয্যা থাকলে প্রয়োজন হলে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য তা বাড়িয়ে ১০টি করতে হবে।

এসব এলাকায় ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপের চিত্র তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে ডেঙ্গু রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে সিলেট ও রংপুরে রোগীর সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। রাজশাহী বিভাগেও তুলনামূলকভাবে রোগী কম।

তিনি জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত এলাকার মধ্যে পিরোজপুরে রোগীর সংখ্যা বেশি।

বরিশাল অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হওয়ার একটি কারণ হিসেবে সুপারি ও ডাব গাছ কাটার পর গোড়ায় জমে থাকা পানির কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, এসব স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার লার্ভার প্রজননের অন্যতম উৎস হতে পারে।

বাসাবাড়ির আশপাশ, ছাদ ও বারান্দায় যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। ফুলের টবসহ যেসব জায়গায় পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শও দেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/এএসএফ