• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ এএম


ভাগ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়, কঠিন সময়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন এই ৫ আয়াতে

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ আগস্ট ২০২৬ ৪:১৫ পিএম

তকদির বা ভাগ্যের ভালো-মন্দে বিশ্বাস করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, তকদিরের কিছু বিষয় চূড়ান্ত হলেও কিছু বিষয় দোয়া, নেক আমল ও সদকার মতো আমলের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই জীবনে বিপদ-আপদ এলে সেটিকে ‘খারাপ সময়’ বলে সময় বা ভাগ্যকে দোষারোপ করা ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইসলামে তকদিরকে সাধারণভাবে ‘মুবরাম’ ও ‘মুআল্লাক’—এই দুইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। আরবি ‘মুবরাম’ শব্দের অর্থ চূড়ান্ত বা অপরিবর্তনীয়। অন্যদিকে ‘মুআল্লাক’ অর্থ ঝুলন্ত বা লটকানো। সহজভাবে বলা যায়, মহান আল্লাহ বান্দার তকদির নির্ধারণ করেছেন এবং তা পরিবর্তনের ক্ষমতাও তাঁর রয়েছে। তকদিরের কিছু বিষয় নির্ধারিত, আবার কিছু বিষয় বান্দার নেক আমল, বাবা-মায়ের দোয়া বা সদকার মতো আমলের সঙ্গে সম্পর্কিত।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সৎকর্ম আয়ু বাড়ায় এবং দোয়া ছাড়া অন্য কিছু তকদির পরিবর্তন করে না। মানুষের অসৎকর্ম তাকে রিজিক থেকেও বঞ্চিত করে। (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৯০; সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ২১৩৯)

জীবনে সংকট, বিপদ ও নানা দুর্ভোগের মুখে পড়ে অনেকেই হতাশ হয়ে নিজের ভাগ্যকে দায়ী করেন। কখনো কোনো কঠিন পরিস্থিতিকে ‘খারাপ সময়’ বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে সময় বা কালকে খারাপ বলে গালমন্দ করা সমর্থিত নয়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, ‘আদম সন্তান সময় ও কালকে গালমন্দ করে, অথচ আমিই সময়, আমার হাতেই রাত ও দিনের পরিবর্তন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬৬৭)

এ কারণে বিপদ ও সংকটের সময়ে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও সাহায্য চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। ভাগ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বা হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং দোয়ার মাধ্যমে তাঁর সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি ইসলামী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ভয়াবহ বিপদ, দুর্ভাগ্যের অতল গহবর, মন্দ তকদির এবং শত্রুর আনন্দ প্রকাশ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৬৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৬৩০)

কষ্ট, পরীক্ষা কিংবা বিপদের সময়ে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতেও ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর ওপর আস্থা রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

১. সুরা বাকারা: ১৫৫-১৫৬

সুরা বাকারার ১৫৫-১৫৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষকে ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দেওয়ার পাশাপাশি বিপদে পড়লে ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব’—এ কথা বলার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

২. সুরা আলে ইমরান: ১৮৬

সুরা আলে ইমরানের ১৮৬ নম্বর আয়াতে মানুষের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে পরীক্ষা এবং বিভিন্ন কষ্টদায়ক কথা শোনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সেখানে ধৈর্য ও তাকওয়া অবলম্বনকে দৃঢ় সংকল্পের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩. সুরা বাকারা: ১৮৬

সুরা বাকারার ১৮৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি বান্দার নিকটবর্তী এবং আহ্বানকারী যখন তাঁকে ডাকে, তখন তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। তাই বান্দাকে আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৪. সুরা আল-লাইল: ৪-৭

সুরা আল-লাইলে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে, তাঁকে ভয় করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করে, তার জন্য সহজ পথে চলা সুগম করে দেওয়া হবে। (সুরা আল-লাইল, আয়াত: ৪-৭)

৫. সুরা বাকারা: ২৮৬

এ ছাড়া সুরা বাকারার ২৮৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। একই আয়াতে ভুল-ত্রুটি ক্ষমা, বোঝা লাঘব এবং আল্লাহর রহমতের জন্য দোয়া শেখানো হয়েছে।

সুতরাং জীবনে কোনো বিপদ, সংকট বা দুর্ভোগ এলে সেটিকে ‘খারাপ সময়’ বলে সময় কিংবা ভাগ্যকে দোষারোপ না করে ধৈর্য ধারণ করা, নেক আমল করা, দোয়া করা এবং আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখার শিক্ষা ইসলামে দেওয়া হয়েছে।

/এসএন