• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ এএম


ইরানকে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে’ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ আগস্ট ২০২৬ ৪:০২ পিএম

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সদ্য গঠিত যৌথ নিরাপত্তা জোট ‘মক্কা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আল মায়াদিন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা জোটের তিন সদস্য দেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

ইরানের পার্লামেন্টের ‘খানে মিল্লাত’ সংবাদ সংস্থার প্রধান মেহেদী রহিমি আল মায়াদিনকে জানিয়েছেন, জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইরান একটি নিমন্ত্রণপত্র পেয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মেহেদী রহিমির ভাষ্য, এ অঞ্চলের দেশগুলো এখন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, বিষয়টি ইরানের জন্য এক ধরনের জয়, কারণ তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছে।

এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মক্কায় ‘মক্কা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তিতে নির্ধারিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির আওতায় বলা হয়েছে, জোটের যেকোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই ব্যবস্থাকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, এই জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত হয়নি।

জোটের সদস্য দেশগুলো এরই মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের বৈঠক আয়োজন, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য কূটনৈতিক ও সামরিক কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে।

আঙ্কারার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে মিশরসহ আরও কয়েকটি দেশ এই জোটে যুক্ত হতে পারে।

এদিকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ইরান এখন পর্যন্ত ইতিবাচক মনোভাবই প্রকাশ করেছে। গত ১০ আগস্ট ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছিলেন, এই জোট নিয়ে তেহরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিই এই জোট গঠনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।

ইরানকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার আমন্ত্রণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হলে জোটটির বর্তমান চরিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। পশ্চিমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের গঠিত এই জোট তখন আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে।

/এসএন