• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ এএম


এবার ঘুড়ি উড়ালেই ফি’লি’স্তি’নি শিশুদের ওপর হামলা চালাবে ই’স’রা’য়ে’ল

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ৫:০৫ পিএম

গাজা ভূখণ্ডে শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে আবাসিক এলাকায় হামলা বাড়ানো এবং বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিজেরাই জানিয়েছে, গাজা সীমান্ত থেকে উদ্ধার করা ঘুড়িগুলোতে কোনো বিপজ্জনক উপাদান পাওয়া যায়নি এবং সেগুলো কোনো হুমকিও তৈরি করেনি।

ফিলিস্তিনের বাস্তুচ্যুতদের শিবিরগুলোতে ইসরায়েলি আগ্রাসনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে শিশুরা কিছুটা স্বস্তি পেতে বিনোদনের অংশ হিসেবে সুতির সুতার তৈরি ঘুড়ি ওড়ায়। হালকা এসব ঘুড়ি বাতাসের কারণে কিংবা সুতা ছিঁড়ে মাঝে মাঝে সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলি লোকালয়ের দিকে চলে যায়।

উদ্ধার করা ঘুড়িগুলোতে কোনো বিস্ফোরক না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে গাজায় হামলা বাড়ানো এবং আবাসিক এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বৈঠকের পর দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব এলাকা থেকে ঘুড়ি, বেলুন কিংবা ড্রোন আসবে, সেসব এলাকা ফাঁকা করে দেওয়া হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, একটি ঘুড়ি বা বেলুনে বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক, সেটিকে ড্রোনের মতোই বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তবে ইসরায়েলের এমন অবস্থানকে হাস্যকর এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের নতুন অজুহাত হিসেবে দেখছেন ফিলিস্তিনিরা। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাশেম অভিযোগ করেন, শিশুদের খেলনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়াদ আল-কাররার মতে, একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ শিশুদের ঘুড়ি নিয়ে আতঙ্কিত হচ্ছে—বিষয়টি অবান্তর। তার ভাষ্য, ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত বাস্তবায়ন এড়িয়ে হামলা চালিয়ে যাওয়ার অজুহাত হিসেবেই এই হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শনিবার জানিয়েছে, নাহাল ওজ এলাকা থেকে উদ্ধার করা চারটি ঘুড়ি পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব ঘুড়িতে কোনো সন্দেহজনক উপাদান বা ঝুঁকিপূর্ণ কিছু পাওয়া যায়নি। এরপরও স্থানীয় কাউন্সিলের প্রধানরা সামরিক অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিদিন লঙ্ঘন করে চলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৮৬ জন নিহত হয়েছেন।

/এসএন