হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনা এবং জাবালে সুরের গুহায় অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ডায়াস্পোরাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বিপদের সময় আল্লাহর ওপর আস্থা, ধৈর্য এবং সতর্ক পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া লেখেন, ‘হতাশ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।’
সুরা আত-তাওবার ৪০ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে তিনি এর সঙ্গে সম্পর্কিত জাবালে সুরের ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি লেখেন, কুরআনের এই আয়াতের সঙ্গে মক্কার জাবালে সুরের পাথুরে পাহাড়ের বুকে লুকিয়ে থাকা এক অসাধারণ ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে।
হিজরতের সেই রাতে মক্কা পেছনে রেখে কুরাইশের ষড়যন্ত্র এড়িয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও হজরত আবু বকর (রা.) সরাসরি মদিনার পথে না গিয়ে মক্কার দক্ষিণ দিকে জাবালে সুরের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের গন্তব্য ছিল দুর্গম পাহাড়ের গারে সওর।
আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, তাঁরা সেখানে তিন রাত অবস্থান করেন। বাইরে তখন কুরাইশের তল্লাশি চলছিল। তবে গুহার ভেতরে তাঁদের অপেক্ষাও ছিল সুপরিকল্পিত। হজরত আবু বকর (রা.)-এর ছেলে আবদুল্লাহ দিনের বেলা মক্কায় অবস্থান করে কুরাইশদের গতিবিধির খবর সংগ্রহ করতেন এবং রাতে সেই তথ্য গুহায় পৌঁছে দিতেন।
অন্যদিকে আমের ইবনে ফুহাইরা তাঁর পশুপাল নিয়ে সন্ধ্যার পর গুহার কাছ দিয়ে যেতেন। এর ফলে তাঁদের জন্য দুধের ব্যবস্থা হতো এবং পায়ের চিহ্নও মুছে যেত। তিন রাত পর পথপ্রদর্শক আবদুল্লাহ ইবনে উরাইকিত উট নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এরপর শুরু হয় মদিনার উদ্দেশে তাঁদের ঐতিহাসিক যাত্রা।
পোস্টে বলা হয়, একপর্যায়ে কুরাইশের অনুসরণকারীরা গুহার মুখ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারা এতটাই কাছে চলে এসেছিল যে হজরত আবু বকর (রা.) আশঙ্কা করেছিলেন, নিচের দিকে তাকালেই তারা তাঁদের দেখতে পাবে।
সেই সংকটময় সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত আবু বকর (রা.)-কে বলেন, ‘হে আবু বকর! এমন দুজন সম্পর্কে তোমার কী ধারণা, যাদের তৃতীয়জন আল্লাহ?’ (সহীহ বুখারী)
এরপরই আসে আয়াতটির পরের অংশ—‘অতঃপর আল্লাহ তাঁর ওপর স্বীয় প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং এমন বাহিনী দ্বারা তাঁকে সাহায্য করলেন, যা তোমরা দেখতে পাওনি…’—সুরা আত-তাওবা, ৯:৪০।
আসিফ মাহমুদ লেখেন, একটি গুহার অন্ধকারে তিন রাতের সেই অপেক্ষার পর যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার গন্তব্য শুধু মদিনায় গিয়ে শেষ হয়নি। সেই যাত্রার মধ্য দিয়েই ইসলামের ইতিহাস নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করে এবং তা পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে।
তিনি বলেন, জাবালে সুর আজও দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়ের পাথরগুলো বদলায়নি, কিন্তু বদলে গেছে পৃথিবী। ইতিহাস সবসময় বড় কোনো প্রাসাদে লেখা হয় না; কখনো তা পাথরের গায়ে, আবার কখনো নির্জন কোনো গুহার অন্ধকারে লেখা হয়। আর সেই ইতিহাসের আলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ছড়িয়ে পড়ে।
জাবালে সুরের ঐতিহাসিক ঘটনায় যেমন সতর্ক পরিকল্পনা ছিল, তেমনি ছিল নিঃশর্ত তাওয়াক্কুল। সেখানে ছিল সাধ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা।
পোস্টের শেষাংশে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আল্লাহ আমাদেরও সেই আস্থা, ধৈর্য ও সত্যের পথে অবিচল থাকার তাওফিক দিন। আমিন।’