• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪২ পিএম


ফিলিস্তিন নিয়ে পোস্টে রিচ কমিয়েছে মেটা, গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩৩ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে মেটার কনটেন্ট মডারেশন পদ্ধতি ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠস্বরকে পদ্ধতিগতভাবে সংকুচিত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে। পাঁচ বছর ধরে হাজার হাজার ডিজিটাল অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনে নির্যাতন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি কনটেন্টের দৃশ্যমানতা ও রিচ কমিয়ে দিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা।

ফিলিস্তিনি ডিজিটাল অধিকার সংস্থা ‘৭আমলেহ’ এবং উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘দ্য প্ল্যাটফর্মসাইড অব প্যালেস্টাইন ২০২১-২৫’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭আমলেহ-এর ‘প্যালেস্টিনিয়ান অবজারভেটরি ফর ডিজিটাল রাইটস ভায়োলেশনস’-এ জমা পড়া ৩ হাজার ৫২০টি অভিযোগ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনসংক্রান্ত অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা, পোস্ট মুছে ফেলা, লাইভস্ট্রিমে বিধিনিষেধ আরোপ এবং কনটেন্টের দৃশ্যমানতা কমানোর মতো পদক্ষেপ নিয়মিত নেওয়া হয়েছে। প্রধান প্ল্যাটফর্মগুলোতে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের এই কাঠামোগত ক্ষয় বোঝাতে গবেষকেরা ‘প্ল্যাটফর্মসাইড’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

গবেষকদের মতে, মেটার এসব পদক্ষেপের ব্যাপকতা কেবল প্রযুক্তিগত ত্রুটি দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

নথিভুক্ত অভিযোগগুলোর মধ্যে মাত্র ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে মেটার নীতিমালার প্রত্যক্ষ লঙ্ঘন ছিল। কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তার ৫৭ দশমিক ২ শতাংশই মেটার ‘বিপজ্জনক সংস্থা ও ব্যক্তি’ নীতিমালার আওতায় করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি—৭১ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নীতির অতিরিক্ত প্রয়োগের ফলে ফিলিস্তিন ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিক, গণমাধ্যম ও কর্মীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অ্যাকাউন্ট স্থগিত বা ‘সাসপেনশন’ ছিল সবচেয়ে বেশি নথিভুক্ত পদক্ষেপ। মোট ঘটনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কনটেন্টের প্রচার বা দৃশ্যমানতা গোপনে কমিয়ে দেওয়ার প্রমাণও পাওয়া গেছে, যা ব্যবহারকারীদের কাছে ‘শ্যাডো ব্যানিং’ নামে পরিচিত। এর ফলে কোনো নোটিশ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর কনটেন্টের রিচ কমে যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৭আমলেহ-এর পক্ষ থেকে মেটার কাছে দাখিল করা ২ হাজার ৮২৮টি আপিলের প্রায় অর্ধেকের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

যদিও মেটা এর আগে তাদের আরবি ভাষার কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থার সঠিকতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার রক্ষায় স্বাধীন অডিট পরিচালনা, ‘বিপজ্জনক সংস্থা ও ব্যক্তি’ নীতিমালার সংস্কার এবং সাংবাদিকতামূলক কনটেন্টে বাড়তি সুরক্ষা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

/এএসএফ